হাসপাতালে প্রেসক্রিপশন টানাটানির বিড়ম্বনা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০১:১৬ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একমাত্র সরকারি হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। প্রেসক্রিপশন টানাটানিতে সীমাহীন বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে রোগী ও তার স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। সরকারি হাসপাতালের আঙিনা দালালমুক্ত করে সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 গত বুধবার সকালে ওই হাসপাতালে শতাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালকে দেখা গেছে। সপ্তাহে তিন দিন বেলা ২টার পর কর্মরত চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেখা করার অনুমতি থাকলেও তা মানছে না কোনো প্রতিনিধি।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের আগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালের সীমানার মধ্যে প্রবেশ না করার নিয়ম থাকলেও তারা তা মানছে না। দেখা গেছে, বিক্রয় প্রতিনিধিদের যখন-তখন সাক্ষাতের কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রোগীদের।

অপরদিকে, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ামাত্রই হাসপাতালের করিডরে অবস্থানরত এসব বিক্রয় প্রতিনিধি রোগীর হাতের প্রেসক্রিপশন দেখতে কাড়াকাড়ি শুরু করেন। সেটি তাদের না দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসার উপায় নেই। অনেক সময় তাদের টানাটানিতে প্রেসক্রিপশন ছিঁড়েও যায়।

সবচেয়ে অমানবিক কাজ দেখা গেছে কিèনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগ করা দালালদের রোগী ও তাদের স্বজনদের হাত ধরে টানাটানি করার দৃশ্য। একরকম টেনেহিঁচড়ে তাদের কিèনিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একবার জোড়াজুড়ি করে নিতে পারলেই বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেন এসব ক্লিনিকের মালিকরা। বিনিময়ে ওই দালালরা এসব ক্লিনিক থেকে কমিশন হাতিয়ে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, তারা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে না দেখালে কোম্পানির লোকজন মনে করে তারা ঠিকমতো কাজ করেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ক্লিনিকের নিয়োগ করা কয়েকজন দালাল জানান, ক্লিনিকের মালিকরা প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ডাক্তারদের কমিশন পৌঁছে দেন। একজন ডাক্তার সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কমিশন পান। এ জন্য তাদের সরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল বেলাল জানান, নিয়মের বাইরে ওষুধ কোম্পানির লোকজন ঢুকতে পারবে না। এ ছাড়া হাসপাতালে দালালদের প্রবেশের অনুমতি নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত