আওয়ামী লীগ সরকার ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেনের সরকার মাইনাস টু ফর্মুলা করেছিল দেশের গণতন্ত্রকে দূরে রাখার জন্য। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছিল। আওয়ামী লীগ যে হঠাৎ করে সংবিধানে এই পরিবর্তন এনেছিল, তা কিন্তু নয়।’
গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম’ নামে বিএনপি-সমর্থিত একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এ বিধান বাতিলের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আজকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করল, অনিশ্চয়তা তৈরি করল।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে কীভাবে এসেছিল সে-সম্পর্কে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। এই দাবি নিয়ে ১৭৩ দিন তারা হরতাল পালন করেছিল এই দাবিকে এস্টাবলিস্ট (প্রতিষ্ঠিত) করার জন্য। তাদের যুক্তি ছিল, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। সুতরাং এখানে নির্বাচনের সময় একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজন। বিষয়টি উপলব্ধি করে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছিলেন।’
‘উত্তরা থেকে গাজীপুর বিআরটি প্রজেক্ট এখন গলার কাঁটা’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্লজ্জ, এ কথা বলার আগে তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ বছর ধরে মানুষকে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছেন।’
সচেতন নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান মো. শাহরিয়ার আলম জর্জের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।
