সালাম মুর্শেদীর গুলশানের সেই বাড়ির নথি তলব

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ এএম

গুলশানে পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলের অভিযোগে খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ওই বাড়ির সব নথি দেখতে চেয়েছে হাইকোর্ট। গণপূর্ত সচিব, রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) চেয়ারম্যান এবং আবদুস সালাম মুর্শেদীকে ১০ দিনের মধ্যে এসব নথি এফিডেভিট (হলফনামা) করে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশসহ রুল দেয়। সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ওই বাড়ি দখলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ অক্টোবর এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

রুলে পরিত্যক্ত বাড়ি দখলের কারণে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও আবদুস সালাম মুর্শেদীকে জবাব দিতে বলেছে আদালত।

রিট আবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি ১৯৮৬ সালের অতিরিক্ত গেজেটে ‘খ’ তালিকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে তালিকাভুক্ত। কিন্তু পরিত্যক্ত ঘোষিত এ বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে বসবাস করছেন সালাম মুর্শেদী। ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিত্যক্ত হওয়ার পরও কীভাবে রাজউক চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে সালাম মুর্শেদীকে বাড়িটির নামজারি ও দলিল হস্তান্তর করার অনুমতি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গণপূর্ত থেকে রাজউককে গত কয়েক বছরে চারটি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু রাজউক কিছুই জানায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটি গণপূর্তের। রাজউক এর মালিক না হয়েও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয় কী করে? রাজউক কিংবা উনি (সালাম মুর্শেদী) কীভাবে বেনিফিশিয়ারি হন। এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বলে মনে করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত