ইনিংস বড় না করার আক্ষেপ শান্তর

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ১১:০১ পিএম

জিম্বাবুয়ে ম্যাচে অনেক সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন নাজমুল হাসান শান্ত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দলের পছন্দের ওপেনার হলেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ ছিলেন। এই ফরম্যাটে শান্তর দলে থাকা আগে থেকেই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতি ম্যাচে ভালো কিছু করতে না পারা সেই প্রশ্ন আরও বাড়াচ্ছিল। অবশেষে ৫৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে অশান্ত চারপাশ ‘শান্ত’ করেছিলেন শান্ত। তবে এক ম্যাচ পর আবারও প্রশ্নের মুখে তার ব্যাটিং। অথচ বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় তো বটেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিটাও করলেন এই ব্যাটার। তবে শান্তর ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ও শেষ পর্যন্ত টিকে ইনিংস আরও লম্বা করতে না পারায় আবারও তিনি সমালোচনায় পড়েছেন। তবে শান্ত নিজে বললেন তার ব্যাটিং ঠিক ছিল।

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ম্যাচে শান্তর শুরুটা হয়েছিল ধীরে। পরে দ্রুত রান তুলে বলে ও রানে কিছুটা দূরত্ব বাড়ান। ওই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দলের প্রয়োজনেই ওই ব্যাটিং করেছিলেন। এই ম্যাচে ধীরে শুরু তো পরের ম্যাচে দ্রুত রান করতে হবে তাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে কালকের ম্যাচেও ধীরেই চলেছেন শান্ত। যেমনটা ছিলেন ভারতের বিপক্ষে। একটি করে ছক্কা ও চার না মারলে শান্তর রান (২৫ বলে ২১) ওই ম্যাচে আরও কম হতো। পাকিস্তানের সঙ্গে ৪৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংসটা তাই দলকে জেতাতে পারেনি। শান্তকে হয়তো একপ্রান্ত ধরে খেলারই পরিকল্পনা দেওয়া হয়। সেই রকম খেলে শান্ত নিজে রান পাচ্ছেন, তবে তা দলের কোনো কাজে আসছে না।    

তবে শান্ত বললেন ভিন্ন কথা। নিজের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ এ ম্যাচেও ঠিক আছে বলে জানান এই ব্যাটার। সঙ্গে আক্ষেপ করলেন ইনিংস শেষ পর্যন্ত টানতে না পারায়, ‘আমার কাছে মনে হয় আমার ইনিংসে উইকেট যেমন চাচ্ছিলÑওরকম ব্যাট করছিলাম। উইকেটটা কোনো ব্যাটারের জন্যই খুব একটা সহজ ছিল না। বিশেষত নতুন ব্যাটার বা মিডল ওভারগুলোতে স্পিন ধরছিল। আমার মনে হয় যেভাবে ব্যাট করছিলাম, ঠিক ছিল। যদি শেষ করতে পারতাম, তাহলে দলের জন্য ভালো হতো।’ নিজে না পারলেও শান্ত জানালেন অ্যাডিলেডের উইকেটে ১৫০ রান করা যেত। না পারার ব্যর্থতা অবশ্যই লোয়ার মিডল-অর্ডারদের, ‘উইকেট ১৪০-৫০ এর ছিল। আমি বুঝছিলাম আমার শেষ করে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। পারিনি এজন্য আফসোস লেগেছে। শেষের ব্যাটাররা আরেকটু ভালো করলে হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হতো।’

শান্তর ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ অবশ্য মিথ্যে নয়। এই বিশ্বকাপে লোয়ার মিডল-অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেনের ওপর দায়িত্ব ছিল পাওয়ার হিটিং করার। সঙ্গে নুরুল হাসান সোহানের ওপরও এই দায়িত্ব থাকে। সোহান ভারতের বিপক্ষে ২৫ রান বাদে বাকি চারটিতে কিছুই করতে পারেননি। একই অবস্থা মোসাদ্দেকের। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২০ রানের ইনিংস খেলার পর টানা চার ইনিংসে এক অঙ্কের ঘরে রান তার। বাকি ম্যাচগুলোতে খুব বেশি বল হাতে না পেলেও পাকিস্তানের সঙ্গে পেয়েছিলেন তিন ওভারের মতো। অথচ ১১ বল খেলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। শান্ত অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দোষ দিতে চাননি, ‘এখানে লোয়ার-মিডল অর্ডার বলে কোনো কথা নেই। আমরা পুরো দল হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি। যে ম্যাচগুলো জিতেছি, দল হিসেবেই জিতেছি। এটা সবারই দায়িত্ব ভালো করা। দল হিসেবে হয়তো আজকের ম্যাচটা ভালো করতে পারিনি।’

পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ দারুণ খবর পেয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেদারল্যান্ডস হারিয়ে দেওয়ায় সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হয় সাকিব আল হাসানদের। এই ব্যাপারটি জেনেই ম্যাচে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিজেদের হাতে থাকা এই সুযোগ লুফে নিতে পারেনি তারা। শান্ত জানান এতকিছু তারা ম্যাচে নামার সময় ভাবেননি, ‘ওরকম কোনো কিছু চিন্তা করিনি। আমরা চিন্তা করেছি, এটা আমাদের জন্য সুযোগ। প্রতি ম্যাচে যেমন পরিকল্পনা করে আসি, ওটাই এসেছি। কিন্তু যেটা আপনি বললেন, সুযোগ ছিল। ওইটা মাথায় রেখেই আমরা ম্যাচ খেলতে নামছি। আমরা তো সবাই জিততে চেয়েছি। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও সবাই চেয়েছে, যে কজন এখানে ছিল জিততে চেয়েছে। এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। সবাই শতভাগ চেষ্টা করেছে। সবাই মন থেকে শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত