পথে পথে পুলিশি তল্লাশি, ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৮ এএম

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ফরিদপুরে হয়েছে বিএনপির ষষ্ঠ বিভাগীয় গণসমাবেশ। এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালে হওয়া গণসমাবেশগুলোর মতো ফরিদপুরের সমাবেশেও দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে অংশ নিতে হয়েছে। সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়ার পথে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বাধার মুখে পড়তে হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। এছাড়া পাশের অন্য জেলাগুলো থেকে সমাবেশগামী বিএনপি নেতাকর্মীরাও পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিএনপির সমাবেশ শুরুর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে পুরো ফরিদপুর জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সকাল থেকে শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, বদরপুরের মোড়, বাহিরদিয়া সেতু এলাকা ও নগরকান্দার তালমা মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। কাগজপত্র পরীক্ষা ও তল্লাশির নামে করা হয় হয়রানি। এ সময় ইজিবাইক, ছোট পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানসহ বিভিন্ন ছোট যান থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও নামিয়ে দেওয়া হয়। দিনভর বিএনপির সমাবেশস্থলে যাওয়ার প্রধান পথ শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে পুলিশের তৎপরতা বেশি দেখা গেছে। ফরিদপুর শহরে ঢোকা কিংবা শহর থেকে আশপাশের জেলায় যেতে হলে ওই দুই মোড় ব্যবহার করতে হয়। তবে পুলিশের দাবি, সমাবেশস্থলের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে এসব এলাকায় যান চলাচল করতে দেওয়া হয়নি।

ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশের আগের দিন গত শুক্রবার সকাল থেকে জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে আঞ্চলিক বাস, মিনিবাসসহ দূরপাল্লার সব রুটে বাস ধর্মঘট শুরু হয়। গতকাল সকাল থেকে ফরিদপুর শহরে যান চলাচল একেবারেই কম দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। হাতেগোনা কিছু ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

জেলার প্রবেশ দ্বার শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, বদরপুরের মোড়, ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও ইমাম উদ্দিন স্কয়ার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে। এ সময় ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যান থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও নামিয়ে দিতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, ‘সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা এই তল্লাশি করিনি। এটা আমাদের নিয়মিত চেকিংয়ের অংশ। মোটরসাইকেল বা গাড়ির কাগজপত্র দেখা নিয়মিত দায়িত্ব। এটা আমরা নিয়মিত করে থাকি। আর সন্দেহ মনে করলে কোনো গাড়িতে তল্লাশি করেছি। এটা জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আইন অনুযায়ী করে থাকে।’

ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত : গতকাল সকাল ১০টা থেকে ফরিদপুর জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটে বলে দাবি করেছেন অনেকেই। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা জানান, সকাল ১০টার পর থেকে তারা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেননি।

বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সমাবেশের প্রেস উপ-কমিটির আহ্বায়ক এ বি সিদ্দিক মিতুল অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার নানাভাবে আমাদের এই সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ তারা জেলার মোবাইল ইন্টারনেটের গতি স্থির করেছে, কিন্তু তাদের অপচেষ্টা সফল হবে না।’

পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে মাগুরা বিএনপির নেতাকর্মীরা : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ফরিদপুরের বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দেন মাগুরা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, মাগুরা জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশস্থলে যেতে চাইলেও পুলিশ তাদের নানাভাবে হয়রানি করে। সকালে শ্রীপুরের ওয়াপদাহ কামারখালী ব্রিজের কাছে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া মোটরসাইকেল বহর পুলিশ আটকে দেয়। পরে গড়াই ও মধমুতি নদীর তীর দিয়ে শ্রীপুরের গোয়ালদহ ও মহম্মদপুরের বাবুখালী মাঝিবাড়ির ঘাট পার হয়ে বিকল্প পথে ফরিদপুরের সমাবেশস্থলে পৌঁছেন নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরার পুলিশ সুপার মসিউদ্দোলা রেজা বলেন, ‘হাইওয়েতে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। হেলমেটবিহীন অবস্থায় কোনো মোটরসাইকেলে ২-৩ জন মানুষ বহন করলে নিয়মানুয়ায়ী তাদের বাধা দেবে এটাই স্বাভাবিক। পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউকে হয়রানি করেনি।’

শিবচর থেকে ট্রলারে ফরিদপুরর সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা : শিবচর থেকে ট্রলারে করে ফরিদপুরের সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, যানবাহন না পাওয়া, ধরপাকড় ও হয়রানি এড়াতে নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন তারা।  ট্রলারে  উপজেলার দত্তপাড়া, সন্ন্যাসীর চর, বন্দরখোলা, পাঁচ্চর, কাঁঠালবাড়ি ও কুতুবপুর ইউনিয়নের চারশতাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। এরমধ্যে গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী মাদবরেরচর হাটের কাছ থেকে তিনটি ট্রলারে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা গতকাল সকাল ৯টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

মাদবরেরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমারাত বেপারী বলেন, ‘শিবচর থেকে কোনো বাস, মাইক্রোবাস ভাড়া পাওয়া যায়নি। পরে আমরা আমাদের এলাকা থেকে বড় একটি ট্রলার ভাড়া করি। কিন্তু গতকাল (শুক্রবার) রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে পরে আমরা ছোট তিনটি ট্রলার ভাড়া করে রওনা হই।’

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন মাগুরা এবং শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত