বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে চিকিৎসক নামধারী সনদবিহীন জালিয়াতদের সাজা বাড়ানো প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। রুলে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২২ (২), ২৮ (১) ও (৩) ধারা করে সংশোধন করে জালিয়াতদের সাজা বৃদ্ধি করতে কেন সুপারিশ করা হবে না এবং সাজা বৃদ্ধিতে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
রুলে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, বিএমডিসির সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বিএমডিসির রেজিস্ট্রারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে আদালত।
চিকিৎসা সনদবিহীন ডাক্তার নামধারীদের দৌরাত্ম্য ও তাদের সাজা দেওয়া নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ১৮টি প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আর খান রবিন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
রিটকারী আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএমডিসি আইনের ২২ (২), ২৮ (১) ও (৩) ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করলে এবং ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের সাজার বিধান রয়েছে।
অ্যাডভোকেট জে আর খান রবিন বলেন, বিগত কয়েক বছরে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে সনদ নেই এমন ব্যক্তিরা নামের আগে ডাক্তার পদবি জুড়ে দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এটি হচ্ছে আইনের সাজার বিধান অপ্রতুল হওয়াতে। তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজালের কারণে কঠোর সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু একজন ভুয়া চিকিৎসকের কারণে রোগীর মৃত্যু বা সংকটাপন্ন হলে এ সাজা অপ্রতুল মনে হয়। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট রুল ও নির্দেশনা দিয়েছেন।’
হাইকোর্ট আদেশে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বিএমডিসির সভাপতি ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।
