প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেল হেফাজত

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৫ এএম

কারাবন্দি হেফাজত নেতাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার, মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংসদে আইন পাস, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণাসহ সাত দফা দাবি নিয়ে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। আসর নামাজের পর তারা গণভবনে প্রবেশ করেন এবং সন্ধ্যায় বের হন। হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেন।

হেফাজত সূত্রে জানা যায়, আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজত আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর একটি চিঠি দেওয়ার জন্য হেফাজতের প্রস্তুতি ছিল। শনিবার হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গুলিস্তানের কাজী বশির মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় আসেন। এ কারণে এই দিনই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া ও সাক্ষাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠকে প্রতিনিধিদল সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। সেখানে কারাবন্দি হেফাজত নেতাদের মুক্তির দাবি উঠে আসে। হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা নাছিরউদ্দীন মুনিরসহ হেফাজতের সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা। তারা হেফাজত নেতাদের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পাঠ্য বইয়ে ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন হেফাজত নেতারা। তারা বিভিন্ন শ্রেণির বই সঙ্গে নিয়ে যান। আপত্তির অংশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজত আমিরের একটি চিঠি হস্তান্তর করেছি।’

সূত্র জানায়, প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানী ও মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী প্রমুখ।

হেফাজতের ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন: শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত কাজী বশীর মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজত আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সম্মেলনে বাবুনগরী বলেন, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ঘোষিত হেফাজতের ১৩ দফা আন্দোলনে ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। এ সময় তিনি কারাবন্দি হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই হেফাজতের কোনো রাজনৈতিক ভিশন বা মিশন নেই। হেফাজত আল্লামা শফীর দেওয়া ১৩ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে পূর্বের ন্যায় নিজেদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ১৩ দফা হেফাজতের ঘোষিত এজেন্ডা। এর বাস্তবায়নের জন্য হেফাজত অতীতেও কাজ করে গেছে, আগামীতেও করবে। তিনিও বক্তব্যে কারাবন্দি মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও মাওলানা নাছিরউদ্দীন মুনিরসহ হেফাজতের সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সম্মেলন থেকে হেফাজত নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের মুক্তি, হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ইসলাম ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, শিক্ষা কারিকুলামে ধর্ম শিক্ষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, জাতীয় শিক্ষা কমিশনে হাইয়াতুল উলইয়ার প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক ও বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের মাওলানা সাদকে আসার অনুমতি না দেওয়াসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল রাত ১১টায় ভিডিও বার্তায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন সংগঠনের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এর দেড় মাস পর ৭ জুন ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ সহিংসতার পর হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলে। সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৯টি মামলা হয়, এসব মামলায় ৬৯ হাজারের বেশি জনকে আসামি করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনটির একাংশের সঙ্গে বিরোধের মধ্যে ২০২০ সালে ১৫ নভেম্বর এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত