ইসিজি করেন ঝাড়ুদার!

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪১ এএম

বাগেরহাটের মোংলায় স্থানীয় একটি প্যাথলজিতে ইসিজির কাজ করেন একজন ঝাড়ুদার। গত শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের ১ জেটি সংলগ্ন ঘোষ ডেইরীর মোড়ের ওই প্যাথলজিতে আসাদুজ্জামান সোহেল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা ইসিজি করতে গেলে বিষয়টি ফাঁস হয়। পরে এ নিয়ে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান সোহেল জানান, শুক্রবার দুপুরে ইসিজি করানোর জন্য ঘোষ ডেইরীর মোড়ে সামাদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘আধুনিক প্যাথলজিতে’ যান। সেখানে বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারী তার ইসিজি করেন। পরে তার সন্দেহ হলে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই বৃদ্ধা প্যাথলজিতে ঝাড়ুদার ও আয়ার কাজ করেন।

এ বিষয়ে ঝাড়ুদার বেগম বলেন, ‘আমি আধুনিক প্যাথলজিতে আয়ার চাকরির পাশাপাশি ফাঁকে ফাঁকে ইসিজিও করি। ১৫ বছর ধরে করতে করতে শিখেছি। আমাকে দিয়ে করালে আমার দোষ কী, আমি তো এখানে চাকরি করি।’

আধুনিক প্যাথলজির মালিক অনিমেষ সাহা বলেন, ‘লোক ছিল না, তাই বেগম করেছে, সে করতে পারে। সে এখানে আয়ার চাকরিও করে। যদিও তাকে দিয়ে এটা করানো ঠিক হয়নি। এখানকার সব প্যাথলজিতেই এমন অনভিজ্ঞ লোকেই তো করছে, তাদের কেউই তো অভিজ্ঞ না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, ‘ঝাড়ুদারকে দিয়ে ইসিজি করানোটা কোনোভাবেই ঠিক করেনি। এরজন্য অবশ্যই একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক থাকতে হবে। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর দাস বলেন, ‘অনভিজ্ঞ তো পরের কথা, ঝাড়ুদার দিয়ে তো এটা কোনোভাবেই করাতে পারেন না। এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকেও বলছি এখনই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত