সর্বজনের গল্প

করোনার পর ব্যবসাটা আর জমাতে পারিনি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৫১ এএম

মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষা চাঁদপুর জেলায় আক্কাস উদ্দিনের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, তবে তখন বয়স কত ছিল তা মনে নেই। পড়াশোনাও বেশি দূর এগোয়নি। জীবিকার সন্ধানে অল্প বয়সেই ঢাকায় চলে এসেছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে, নানা কাজ করে এখন থিতু হয়েছেন একটি ব্যবসায়। গত ২০ বছর ধরে তিনি মিরপুর, আগারগাঁও, তালতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিক্রি করছেন হালিম ও গরুর বট।

দিনটি কেমন কাটছে আপনার?

গরিবের আর দিন মামা…

কেন, ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না?

ভালো-মন্দ মিলিয়েই চলছে। তবে আগে খরচপাতি কম ছিল। পরিবারের দৈনিক খরচও ছিল কম, সঙ্গে বিক্রি-বাট্টা থেকে লাভ হত প্রচুর। কিন্তু এখন জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গেছে। হালিম আগে ২০ টাকা করে বিক্রি করতাম। এখন সেটাই বেচতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবু লাভের মুখ আগের মতো নেই।

এই ব্যবসায় জড়ালেন কি করে?

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেক ধরনের কাজ করেছি। একটা সময় বুঝলাম, চাকরি করে আর সংসার টানা যাবে না। তাই নিজেই ব্যবসা শুরু করি।

কেমন ছিল সেই শুরু?

প্রথমে চায়ের টং দিয়েছিলাম গুলিস্তানে। সেখানে শুরুতে ভালো চলছিল। দু বছরের মতো চললেও সেটা গুটিয়ে নিতে হয়। পরে মৌসুম বুঝে বুঝে ব্যবসা বদল করেছি। এখন শুধু হালিমই বিক্রি করছি। আয় ভালোই ছিল। তবে করোনার পর থেকে ব্যবসাটা আর জমাতে পারিনি। কোনো রকমে টিকে আছি।

ঢাকায় এলেন কিভাবে?

স্বাধীনতার পর আমার পরিবার সংগ্রাম করছিল মেঘনা নদীর সঙ্গে। ভাঙনে একদিন বিলীন হয় আমাদের বাড়িটিও। সর্বস্বান্ত হয়ে পাড়ি জমাই ঢাকায়। তখন বয়স কত ঠিক মনে নেই, আনুমানিক ৭/৮ বছর হবে। এখানে আসা মাত্রই কাজে যোগ দিতে পারিনি। কয়েক মাস পর সদরঘাটের ধারে একটা ভাতের হোটেলে কাজ পেলাম। তিন বেলা খাবার আর দিনে ৫ টাকা বেতনে।

আপনাকে সুযোগ দেওয়া হলে কোন স্বপ্নটি পূরণ করতে চাইবেন?

বয়স তো অনেক হলো। ছোটাছুটি করতে আর ভালো লাগে না। তবে আয় রোজগার তো করতেই হবে। স্থায়ীভাবে একটা দোকান নিয়ে বসতাম। খুব বড় না, ছোটোখাটো। অন্তত ৫-৬ জন বসতে পারে এমন একটা দোকান হলেও দিতে চাইতাম।

কত টাকা হলে ভালোভাবে চলতে পারবেন?

চাওয়ার কি আর শেষ আছে। এখন পরিবারের দৈনিক খরচ ১ হাজার টাকা। সেটা জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু সেটা যেদিন আয় হবে, সেদিন আবার চাহিদাও বেড়ে যাবে।

আপনি যদি মন্ত্রী হতেন তাহলে প্রথমে কোন কাজটি করতেন?

বাড়ি চাঁদপুরে হলেই কি আর মামা চাঁদ কপাল নিয়ে আসছি! ও আমার ভাগ্যে নেই। তাই সে আশা করিও না। এখন আমাদের জীবনের পড়ন্তবেলা। শেষ দিনটির প্রতীক্ষায় প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো আশা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত