সালাউদ্দিন বললেন তিনি কিছুই জানেন না

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৩ এএম

নতুন বছর শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে কেনাকাটায় অসংগতি, ভুয়া বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ত্রুটিপূর্ণ অডিট রিপোর্ট নিয়ে সরব ফুটবল অঙ্গন। ফিফা সম্প্রতি বাংলাদেশ বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদি, আলোচিত সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, বিতর্কিত প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেন ও সহকারী হিসাব কর্মকর্তা অনুপম সরকারকে কারণ দর্শানো নোটিস পাঠিয়েছে। তবে এই আলোচনায় সেভাবে আসেনি বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের নাম। গতকাল অবশ্য নিজেই এই আলোচনায় নিজেকে জড়িয়ে ফেললেন বাফুফের চারবারের সভাপতি। ঠিক যেন ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাইনি’-র মতো অবস্থা। আগে ভাগেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হুট করেই সংবাদ সম্মেলন করেন সালাউদ্দিন। ফিফার কাছ থেকে বাফুফে সভাপতি হিসেবে কোনো চিঠি না পাওয়ার দাবি করেন। জানান, যে চারজনের কথা এসেছে, তাদের একজনও এরকম কোনো কিছুই তাকে জানাননি। অথচ সভাপতি হিসেবে বাফুফের সবকিছুই সবার আগে জানার কথা তার। কেউ কেন তাকে কিছু জানাননি, সেই কারণটাও সালাউদ্দিনের অজানা। সংবাদ সম্মেলনে নিজের পিঠ বাঁচাতে গিয়ে সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাফুফে সভাপতি!

গতকাল দুপুর ২টায় বাফুফের কাছ থেকে বিকেল চারটার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছানো সংবাদকর্মীদের শুরুতে ধন্যবাদ জানালেও পরে প্রকাশ পেয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিরক্তি। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেখছি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কিছু খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা নিয়ে আমার কিছু আপত্তি আছে। কিছু ব্যাপার আমার কাছেও পরিষ্কার না। আপনারা বলছেন, আমাদের চারজন সংগঠকের নামে চিঠি এসেছে, আমি এর সত্যতা জানি না। বাফুফের সভাপতি হিসেবে আমি ফিফার কোনো চিঠি পাইনি। বাফুফেকেও কোনো চিঠি দেয়নি ফিফা। ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি কিছু পেয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আমাকে সব জানানো, তবে আমাকে কিছু জানায়নি। আমি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। অনানুষ্ঠানিকভাবে ফিফার সঙ্গে কথাও বলেছি। ফিফা এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করতে ইচ্ছুক না। কারণ তারা কিছু তদন্ত করছে। আমার কাছে সবাই নিশ্চুপ থাকছে। কোনো কারণ নিশ্চয় আছে নিশ্চুপ থাকার। ক্রীড়ামন্ত্রীও কাল আমাকে এসব ব্যাপার দেখার জন্য বলেছেন। আমি তো কিছুই জানি না, কীভাবে বলব।’

সংবাদমাধ্যম ‘ভিত্তিহীন’ খবর প্রকাশ করায় ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে দাবি করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমাদের কাছে অ্যান্টি করাপশন (দুদক) থেকে একটা চিঠি এসেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল মিডিয়ায় কিছু অসংগতির খবর জেনে তারা তদন্ত করতে চায়। এক বছর তদন্ত করার পর আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পায়নি জানিয়ে একটা চিঠি দেয়। কই সেই চিঠি তো আপনারা প্রকাশ করেননি? ১২ বছর ধরে লিগ চলছে, খেলা মাঠে আছে সেটা তো বলেন না। এই দুঃখটাই আপনাদের কাছে জানাতে এসেছি।’ তিনি সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়েও চেয়েছেন প্রশ্ন তুলতে, ‘একেক ফেডারেশন একেকভাবে চলে। শুনেছি অনেক ফেডারেশন সাংবাদিকদের বিমান টিকিট দেয়, সদস্যদের নানা সফরে পাঠায়। আমি কখনই বাফুফের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা নিইনি। কারণ এখানে সেই প্র্যাকটিসটা নেই।’ বাফুফেতে ফিফার ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্ট বসানোর ব্যাখ্যায় সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি যেটা জানি, আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল ফরম্যাট ফিফার ফরম্যাটের সঙ্গে মিলত না। কনসালটেন্ট দিয়ে বলছে আমাদের শেখানোর জন্য। শুধু আমাদের নয়, ফিফার ৩৭টা সদস্য দেশকে দেওয়া হয়েছে কনসালট্যান্ট।’ সম্প্রতি বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন সর্বকালের সেরা ১০ ক্রীড়িবিদকে পুরস্কৃত করে। ফুটবলার হিসেবে অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ায় সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সালাউদ্দিন। বিএসপিএর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেই পুরস্কার গ্রহণও করেছিলেন তিনি। তবে পরের দিন বাফুফের নির্বাহী কমিটি তার ব্যক্তিগত পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে আবারও আলোচনায় চলে আসেন তিনি। গতকাল এ নিয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন সালাউদ্দিন। নানা কারণেই নিয়মিতই নেতিবাচক শিরোনাম হচ্ছে সালাউদ্দিন ও বাফুফে। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে সালাউদ্দিন এটাও বুঝিয়ে দিলেন বাফুফের অনেক কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত