সরকারি হাসপাতালে ব্যক্তিগত রোগী দেখবেন ডাক্তাররা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৪৪ এএম

এখন থেকে সরকারি চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতর ব্যক্তিগত চেম্বার করে রোগী দেখতে পারবেন। অফিস সময়ের বাইরে কর্মস্থলে বসেই যাতে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে পারেন সে জন্য সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে পাইলট কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য হাসপাতালে আলাদা চেম্বারে করে দেবে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

গতকাল রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠনের অনুষ্ঠিত ‘ইনস্টিটিউশনাল প্রাকটিস’ বিষয়ক একটি জরুরি সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই তথ্য জানান।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছরের ১ মার্চ থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট অফিস সময়ের বাইরে আলাদাভাবে প্রস্তুতকৃত সরকারি হাসপাতালেই চেম্বারের মাধ্যমে রোগী দেখবেন। সরকারি এই বিশেষ সুবিধার ফলে চিকিৎসকরা ডিউটি সময়ের বাইরে নিজ নিজ সরকারি কর্মস্থলেই চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের মতামত নিয়েছে সরকার। এই কাজটি শুরু করতে দ্রুতই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেওয়া হচ্ছে। এই কাজটি শুরু হলে দেশের লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন ক্লিনিক, ফার্মেসিতে ডাক্তার দেখানোর ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন।

তিনি বলেন, ১ মার্চ থেকে দেশের ৫০টি উপজেলা, ২০টি জেলা এবং পাঁচটি মেডিকেল কলেজে এই সেবা শুরু হবে। দেশের দুর্বল জায়গা হলো উপজেলা হাসপাতাল। সরকার সেগুলো উন্নত করার চেষ্টা করছে। এগুলোতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি দেওয়া হবে।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা ইসলামের মরণোত্তর অঙ্গদানের বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন সারা থেকে চারজন মানুষের বেঁচে যাওয়াÑ এটা মহৎ কাজ হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী সবাইকে মরণোত্তর অঙ্গদানে উৎসাহিত করেন।

সভায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে এইচআইভি রোগী ৯৭০৮ জন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে দেশে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭০৮ জন এবং এখন পর্যন্ত এইচআইভিতে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৮৯০ জন।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭০৮, চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ৭৫ এবং এ যাবৎ মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৮৯০ জন। এইচআইভি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১১টি সরকারি হাসপাতাল হতে এইচআইভি রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ২৩টি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আটটি এনজিও প্রতিষ্ঠান হতে ড্রাগ ইউজারদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি মিলে ১৩৪টি ড্রপ-ইন-সেন্টার হতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীদের মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত