আ.লীগ রাজপথের দল, রাজপথেই থাকবে : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪১ এএম

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। আমাদের কর্মীরা রাজপথে থেকে গড়ে ওঠা কর্মী। কারও সঙ্গে পাল্টা কর্মসূচি আমরা দিচ্ছি না, আমরা আমাদের স্বাভাবিক কর্মসূচি দিচ্ছি। আমাদের এই স্বাভাবিক কর্মসূচি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট-পোর্ট লিংক রোডে জেলা প্রশাসন আয়োজিত চট্টগ্রাম ফুল উৎসব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখলে মনে হয় ওদের গায়ে কাঁটা বিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগ রাজপথের দল, রাজপথে আছে এবং রাজপথেই থাকবে। সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে দেশে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। বিএনপির কর্মসূচির দিকে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি এবং শান্তি সমাবেশ করছি। কারও সঙ্গে পাল্টা কর্মসূচি আমরা দিচ্ছি না। আমাদের স্বাভাবিক কর্মসূচি আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যখন সরকারে ছিলাম না, তখনো রাজপথে ছিলাম। এখন সরকারে আছি, ভবিষ্যতে থাকলে তখনো রাজপথে থাকব।’

জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. আমিনুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ ও সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন।

ফুল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সাজাতে চান। আমরা দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে চাই। স্বপ্নের ঠিকানা হচ্ছে ২০৪১ সালনাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চাই। ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা জয় করতে সক্ষম হয়েছি। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও আমরা বহু দূরে এগিয়ে গিয়েছি। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যে দেশ শুধু বস্তুগত দিক দিয়ে উন্নত হবে তা নয়, যে দেশ হবে একটি মানবিক দেশ এবং একটি সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।’

চট্টগ্রামকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ প্রায় শেষ, প্রকৃতপক্ষে উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশ দিয়ে প্রথম সড়ক টানেল। সেটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু হয়েছে। উড়াল সড়ক হয়েছে, আরও হচ্ছে। গত ১৪ বছরে এভাবে চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। আরও অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

পুষ্পমেলার আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রের পাড়ে এ রকম নয়নাভিরাম একটা জায়গায় বিস্তৃত জলাশয় আছে, চারপাশে গাছপালা।  এখানে স্বাভাবিকভাবে অনেক পর্যটক আসেন, পর্যটকদের জন্য এটি একটা বাড়তি পাওনা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের জন্যও একটা বাড়তি পাওনা। আমি আশা করব, এই জায়গাটাতে প্রতি বছর তিন মাসব্যাপী পুষ্পমেলা হবে। এই মেলা শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের আকর্ষণ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত