নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২৩ এএম

একে একে বদলি হয়ে এসেছেন-গেছেন অনেক কর্মকর্তা। অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সকলেই দিয়ে গেছেন ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস। কিন্তু অবৈধ ড্রেজার দিয়ে গোমতী নদী থেকে মাটি-বালু তোলার তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া ছাড়া এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা। ফলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন ভূমিকা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জের ত্রিশ এলাকার গোমতী নদী থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই মাটি তোলার অভিযোগ উপজেলা যুবলীগের নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার ত্রিশ গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাশাসনকে ‘ম্যানেজ’ না করে এ কাজ করা সম্ভব নয়! তা না হলে নদী থেকে কীভাবে তিন বছর ধরে মাটি-বালু তুলছে প্রভাবশালীরা!

তারা বলেন, প্রশাসনের লোকজন মাঝেমধ্যে এখানে এসে অভিযান চালিয়ে বলে, ‘ড্রেজারের কাছে কাউকে পাওয়া যায়নি, তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না!’ লোক দেখানো এমন অভিযানের ফলে স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন চলছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, গোমতী নদী থেকে মাটি উত্তোলনের শুরুতে স্থানীয় অনেকেই প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করে ওই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ওই প্রভাবশালীর ‘বাহিনীর’ অত্যাচারে প্রাণরক্ষার ভয়ে সবাই যার যার অভিযোগ তুলে নেন। তার পর থেকে এখন আর কেউ অভিযোগ করতে চায় না।

তারা বলেন, যেখানে তারা প্রশাসনের লোকদেরকেই ভয় পায় না, সেখানে আমরা কোন ছার। তাই মুখবুজে এসব অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে আমাদের।

ত্রিশ এলাকার কৃষক আদম আলী, আবু মুছা, ধনু মিয়া ও আব্দুল করিমসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, নদীর তীরে আমাদের জমিতে চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু এখন ড্রেজার দিয়ে প্রভাবশালীরা যেভাবে চরের ফসলি জমির মাটি উত্তোলন করে নিচ্ছে তাতে আমাদের সব জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এবং আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার মুঠোফোনে শুরুতে গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে আবার তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি গোমতী নদীতে ড্রেজার চালাই না। চলমান ড্রেজার কে চালায় তাও জানি না।

মুরাদনগর উপজেলার নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনী বলেন, এর আগে বেশ কয়েকবার মাটি উত্তোলনের কার্যক্রম বন্ধ করেছি। বর্তমানে আবার মাটি উত্তোলন করছে কিনা বিষয়টি জানা নেই। যদি মাটি উত্তোলন চালু থাকে আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান গোমতী নদী থেকে তিন বছর ধরে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত