বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এখনো পাঠকের পছন্দের শীর্ষে হুমায়ূন আহমেদ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:১৮ এএম

ক্যানসারের কাছে হেরে ২০১২ সালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন ‘কথার জাদুকর’ হুমায়ূন আহমেদ। একই বছর সশরীরে শেষবার বইমেলায় এসেছিলেন নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক। তবে মৃত্যুর এক যুগের বেশি সময় পরও যেন একুশের বইমেলায় সদাজাগ্রত হুমায়ূন আহমেদ! এবারও মেলায় বেশ কয়েকটি স্টল-প্যাভিলিয়নে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তার বই। প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা জানান, এখনো মেলায় এসে সবার আগে হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজেন বেশির ভাগ পাঠক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারে ‘অন্যপ্রকাশ’ ও ‘কাকলী প্রকাশনীর’ প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করে। প্যাভিলিয়ন দুটির চারপাশে শুধু তারই ছবি। এবারের মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বিক্রির শীর্ষে থাকা বইয়ের তালিকায় রয়েছে ‘দেয়াল’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘হিমুসমগ্র’, ‘এপিটাফ’ ও ‘মিসির আলিসমগ্র’।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীরা জানান, তাদের প্যাভিলিয়নে সব থেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের বই। এবার লেখকের কয়েকটি বইয়ের নতুন সংস্করণ এসেছে।

অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলামের কাছে এবারের মেলায় পাঠকের আগ্রহের শীর্ষে থাকা লেখকের নাম জানতে চাইলে তিনি জোর গলায় জবাব দেন ‘ হুমায়ূন আহমেদ’। তিনি বলেন, পাঠক এসেই আগে জানতে চান হুমায়ূন আহমেদের কী কী বই আছে। এখন পর্যন্ত বিক্রিও বেশি তার বইয়ের। হুমায়ূন আহমেদের যে অভাব তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। এখনো অনেকেই এসে তার নতুন বই খোঁজেন, তারা হয়তো জানেনও না তিনি বেঁচে নেই।

মেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিতু সাহা বলেন, ‘সহজ-সরল গল্পের মাধ্যমে কীভাবে জীবনের বাস্তবতাটাকে ফুটিয়ে তোলা যায়, সেটা শুধু হুমায়ূন আহমেদের বই পড়লে বোঝা যায়। বরাবরের মতোই হুমায়ূন আহমেদের বইই আমায় টানে। তাই এবারও বই কিনতে অন্যপ্রকাশ স্টলে গিয়েছিলাম। যেখানে হুমায়ূন আহমেদের প্রায় সব বইই পাওয়া যায়। সেখান থেকে “অপেক্ষা” উপন্যাসটি সংগ্রহ করেছি।’

তানভীর হাসান তৌকির নামে এক পাঠক বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ একজন কালজয়ী লেখক। তিনি না থাকলেও পাঠকদের মনে তার লেখা এখনো জায়গা করে আছে। মেলায় তার দুটি বই কিনেছি।’

নতুন বই : গতকাল বইমেলার ছিল ২২তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। গতকাল নতুন বই এসেছে ৬৪টি।

মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান : জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা ও ছড়া এবং জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত লোকায়ত সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মতিন রায়হান ও সুমনকুমার দাশ। আলোচনায় অংশ নেন তপন বাগচী, মোস্তাক আহমাদ দীন এবং অনুপম হীরা মণ্ডল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল চৌধুরী।

প্রাবন্ধিকরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দেশে ও বিদেশে অগণিত কবিতা ও ছড়া লেখা হয়েছে। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব যেমন কবিতা ও ছড়ার উপজীব্য হয়েছে, তেমনি এই মহান নেতার সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাও সংবেদনশীল কবি ও ছড়াকারদের ভীষণ মর্মাহত করেছে। এর ফলে রচিত হয়েছে অসংখ্য মর্মস্পর্শী কবিতা ও ছড়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শত সংকট-অবিচারে কখনোই মনোবল হারাননি; বরং দৃপ্ত পায়ে হেঁটেছেন কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানের অসংখ্য সাধক কবি বঙ্গবন্ধুর বীরত্ব নিয়ে লোকসংগীত, পুঁথি, জারি, ভাটকবিতা, যাত্রাপালাসহ লোকায়ত ধারার নানা পর্যায়ের সাহিত্য রচনা করেছেন। 

আলোচকরা বলেন, জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত অসংখ্য কবিতা ও ছড়ায় মিশে আছে এ মহান, দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি কবি ও ছড়াকারদের আবেগ ও শ্রদ্ধা। এসব ছড়া ও কবিতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পত্রপত্রিকার পাতায় ও নিবেদিত ছড়া সংকলনগুলোতে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় যেমন তাকে নিয়ে অনেক লোকসাহিত্য রচিত হয়েছে, তেমনি জন্মশতবর্ষেও রচিত হয়েছে পালাগান, ধুয়াগান এবং যাত্রাপালা। বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত এসব লোকসাহিত্য গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। এসব লোকসাহিত্য, ছড়া ও কবিতা আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে বহু মহান নেতা এসেছেন যারা নিজেদের জাতিকে উজ্জীবিত করেছেন। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যত কবিতা, ছড়া বা লোকসাহিত্য রচিত হয়েছে, তা আর কোনো নেতাকে নিয়ে হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন আমাদের মনে জাগতেই পারে। বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা যাকে নিয়ে ভবিষ্যতেও অসংখ্য সাহিত্য রচিত হবে এবং তার অসামান্য কীর্তি আমাদের সামনে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি : আজ বৃহস্পতিবার বইমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মেলার মূলমঞ্চে হবে জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক কথাসাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র এবং জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণা ও মুক্তগদ্য চর্চা শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মিল্টন বিশ্বাস ও ফরিদ কবির। আলোচনায় অংশ নেবেন গোলাম কুদ্দুছ, রফিকুর রশীদ, সুভাষ সিংহ রায়, সরিফা সালোয়া ডিনা, আলফ্রেড খোকন, মাসুদ পথিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত