ইফতারির বাজার নিয়ে ব্যস্ততা আগের মতোই রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যান্য বছর ইফতারের আইটেমের মধ্যে দৈনিক ১০ কেজি ছোলা বিক্রি করতে পারলেও এবার ৬-৭ কেজির বিক্রি করতেই কষ্ট হয়ে যায়।
খবর নিয়ে যানা যায়, দইবড়া, শাহি জিলাপি, ফালুদার মতো জনপ্রিয় ইফতার আইটেমের কেজিতে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি শাহি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, ফালুদা (১ কেজি) ২০০ ও ১৪ পিসের দইবড়ার বাটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা করে। ড্রাইস্টিক মুরগির লেগ পিসে ৪০ টাকা বেড়ে ১২০, খাসির মাথা ৫০ টাকা বেড়ে ২০০ ও কবুতর বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৮০ টাকা করে। এ ছাড়াও ছোলা ও ঘুগনির কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ এবং ঘুগনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। গতবার ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হওয়া খাসির লেগপিস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা করে।
চকবাজার জামে মসজিদের সামনে ঘুগনি, ছোলা, কাবাবসহ হরেক রকমের ইফতারসামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন মোহাম্মদ ফারুক নামে এক ব্যবসায়ী। জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০০ বছর ঐতিহ্য হিসেবে চলমান রয়েছে চকের ইফতার আইটেম। সেই আগের জৌলুস এখনো বিদ্যমান। ব্যস্ততাও দেখা যায় আগের মতো। তবে আমাদের বাপ-দাদাদের ব্যবসা করতে এসে দেখছি আগের মতো বিক্রি নেই। গত বছর রমজানে প্রতিদিন ২৫ কেজি সুতি কাবাব বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এবার ১৫ কেজি বিক্রি করতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছোলা ও ঘুগনি বিক্রি হতো ১০-১৫ কেজির মতো। এবার ৭ কেজি বিক্রি করতেই দম বন্ধ হয়ে আসে।’
এদিকে হাতিরপুল, মগবাজার এলাকায় প্রতি পিস বেগুনি ও আলুরচপ ১০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা যায়। যা গত বছরও অর্ধেক অর্থাৎ ৫ টাকায় বিক্রি হতো। পাশাপাশি ৬০-৭০ টাকার স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়, ৭০ টাকা হালিম ১০০ টাকা ও ৩০ টাকার শাহি পরোটা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা করে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা জানান, এবার রোজার খাদ্য ও খাদ্যপণ্য তৈরির উপাদানগুলোর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার চড়া। প্রথম কয়েক দিন বাড়তি ইফতারের আয়োজন করে তা বিক্রি কম হওয়াতে এখন হিসাব করে তারা ইফতারি তৈরি করেন।
হাতিরপুল বাজারে ইয়ামিন নামে এক ইফতারসামগ্রী বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম দুই রোজায় ইফতারসামগ্রী কিছুটা বিক্রি ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে তা এখন কমছে। টানা তিন দিন লোকসান দিয়ে এখন ইফতারির আয়োজন করতে একটু ভেবেচিন্তে করতে হয়।
মানুষের আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে অনেকে বাজার করছেন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তেমনি সালেহিন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে বিকেলের দিকে দেখা হয় মগবাজারে। তিনি দরদাম করে দুই পিস করে আলুরচপ, বেগুনি, পাকুড়া ও শাকচপ কিনতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব না মেলায় নিত্যদিনের খাবার তালিকা থেকে অনেক কিছু বাদ দিয়েছি। ৯ বছরের মেয়ে মরিয়ম যদি রোজা না রাখত তাহলে হয়তো সন্ধ্যায় ভাত খেয়ে ইফতারি সেরে নিতাম।’
