তারেক-জোবাইদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ১৬ মে সাক্ষ্য

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৪৩ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ১৬ মে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে ২০০৭ সালে করা এ মামলার বিচারকাজ শুরু হচ্ছে।

লন্ডনে থাকা তারেক ও জোবাইদার পক্ষে শুনানি করতে তাদের আইনজীবীর করা আবেদনটি নামঞ্জুরের আদেশ দেন আদালত।

বিগত ওয়ান ইলেভেনের পটভূমিতে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৮ সালে কারামুক্তি পান। এরপর স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জোবাইদা স্বামীর সঙ্গে সেখানেই রয়েছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান দুর্নীতির একাধিক মামলায়ও দন্ডিত হয়েছেন।

তারেক রহমানের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার তাদের পক্ষে শুনানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন গত ২৯ মার্চ। দুদকের পক্ষে এ আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় জোবাইদা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে অপরাধে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক। মামলাটি বাতিল চেয়ে ও এর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন করেন তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান। পরে ওই বছর হাইকোর্ট আদেশে মামলার বৈধতা নিয়ে রুল ও কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন।

দীর্ঘদিন পর দুদকের পক্ষে রুল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয় গত বছর। একই সঙ্গে পলাতক এ দুজনের পক্ষে আইনজীবীর শুনানির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুদক। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে রুল খারিজের আদেশ দিলে বিচারের পথ খোলে। একই সঙ্গে রায়ে তারেক রহমান প্রসঙ্গে বলা হয়, তিনি আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। আত্মসমর্পণ না করে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন না এবং তার পক্ষে আইনজীবীর শুনানির সুযোগ নেই। জোবাইদা রহমানের বিষয়ে আদালত বলেন, গত ১৩ এপ্রিল (গত বছরের ১৩ এপ্রিল) আপিল বিভাগের রায়ে এসেছে, তিনি পলাতক। আইনজীবীর মাধ্যমে তার মামলা চালানোর এখতিয়ার নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত