খবরটা তো আমরা শনিবার পেলাম। কিন্তু আমি বলব, এত দিনের অন্যায়-অবিচার... ১৫ বছর পরে এসে এর সবকিছুর পেছনের সত্যিটা আজ প্রকাশ হলো। এতদিন মিথ্যাচার দিয়ে ফুটবল ফেডারেশন জাতিকে ধোঁকা দিচ্ছিল, আলটিমেটলি আজ বিশ্ব ফুটবল সংস্থা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তোমাদের এখানে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। যা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় লজ্জাজনক দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। এই লজ্জার বাইরে তো আমরা না। কারণ আমাদের পরিচয় ফুটবল। সেই ফুটবলের যে অহংকার আমাদের ছিল, সেই অহংকারকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি করে, যার যার পকেট ভারী করে। আমরা গত ১০-১২ বছর এগুলো নিয়েই প্রতিবাদ করেছি, সোচ্চার ছিলাম। আজ আমার বাদল রায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। সাবেক ফুটবলার ও ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সহসভাপতি, যাকে এই সাধারণ সম্পাদক অপমান করেছিলেন শুধু মাত্র দুর্নীতির প্রতিবাদ করার জন্য। নিশ্চয়ই আজ বাদল রায়ের আত্মা সব দেখতে পাচ্ছে। সে সৃষ্টিকর্তার কাছে যে বিচার রেখেছিল, এটা আজ শুরু হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই বাদলের আত্মা আজ শান্তি পাচ্ছে।
আমরা এই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলেছি। ২০ বছর কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত থেকেছি। ফেডারেশনের সদস্যে হিসেবে সালাউদ্দিন সাহেবের সঙ্গেই ঢুকেছিলাম। উনি খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানটা পেয়েছেন। কিন্তু তার হাত ধরেই আজ বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে কালো অধ্যায়ের রচিত হলো।
আবু নাঈম সোহাগের হয়তো শাস্তি হয়েছে। কিন্তু সে যে দুর্নীতিগুলো করেছে, সেটা ফেডারেশনের কর্তাদের এড়িয়ে তো হয়নি। সুতরাং আমি মনে করি, সোহাগকে আজ সরিয়ে দিলে সরে যাবে। কিন্তু তাকে দিয়ে যারা এই কাজ করিয়েছে, তাদের সম্মুখে নিয়ে আসা উচিত। গত ১০-১২ বছরে আমরা যথেষ্ট প্রতিবাদ করেছি, যথেষ্ট অনিয়মের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা সব সময় স্টান্টবাজি করে, জাতিকে ধোঁকা দিয়ে গেছে। আজ আমি বলব, আল্লাহর শেষ বিচার বলে যে কথা আছে সেটা শুরু হয়েছে।
