বিস্ফোরকের মধ্যে বসে আছি আমরা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩৪ পিএম

দেশের সবচেয়ে বৃহৎ গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। গ্রাহকদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিক রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি? তাদের করণীয়ই বা কী এমন নানা বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিস্তারিত কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নাজমুল লিখন

দেশ রূপান্তর : তিতাসের পাইপলাইন লিকেজ বা ছিদ্র হয়ে অগ্নিকান্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর নগরবাসীর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

ইজাজ হোসেন : বিভিন্ন অগ্নিকান্ড কিংবা বিস্ফোরণের জন্য তিতাসের গ্যাসের পাইপলাইন অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী। কিছুদিন আগেও গত ২৪ এপ্রিল বিভিন্ন স্থানে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এটা আরও বেশি প্রমাণিত হলো। তিতাসের পাইপলাইনে যত ছোট ছিদ্রই থাকুক না কেন, সেখান থেকে গ্যাস বের হবে। এটি কোনো আবদ্ধ স্থানে জমতে জমতে, বাতাসে এর পরিমাণ ৫ শতাংশের বেশি হলে এটা ‘এক্সপ্লোসিভ মিক্সার’ হয়ে যায়। এটা খুবই রিস্কি। সেখানে আগুনের সামান্যতম উৎস কিংবা কোনো ধরনের স্পার্ক হলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাইপলাইনে ছিদ্র থাকা মানেই সেটা বড় ধরনের ঝুঁকি। মাটির নিচে গ্যাসের পাইপলাইনে ছিদ্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর আগেও বন্যার সময় কিংবা বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমার পর অনেক জায়গায় বুদ বুদ উঠতে দেখেছি। অনেকেই এটাকে গ্যাসের লিকেজের কথা বললেও সেভাবে পাত্তা দেয়নি তিতাস। যেনতেনভাবে মানুষকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু যেসব এলাকায় পানি জমে না, সেখানকার পাইপলাইনেও যে ছিদ্র আছে সেটা আমরা আগে জানতাম না। এবার গ্যাসের অতিরিক্ত চাপের কারণে আমরা দেখলাম- তিতাসের বেশিরভাগ এলাকার লাইনেই ছিদ্র রয়েছে। ওই ঘটনার ১০ দিন আগেও এসব লিক ছিল। তখন চাপ কম থাকায় তা বোঝা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে এলপিজি, স্যুয়ারেজ লাইন থেকে গ্যাস জমাসহ নানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি বলব বেশিরভাগ বিস্ফোরণ কিংবা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ।

দেশ রূপান্তর : এই লিকেজের কারণে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। এটা তো এক ধরনের আর্থিক ক্ষতি...

ইজাজ হোসেন : অবশ্যই। অপচয়ের কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তৃতীয় আরেকটা বড় ক্ষতি হলো, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন। কারণ এই গ্যাস নিঃসরণ মানেই বাতাসে মিথেন ছড়িয়ে পড়ছে। আর ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের’ জন্য কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ২৪ গুণ ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস যা জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে।

দেশ রূপান্তর : জ্বালানি বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওইদিন গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই বলছেন, ওটাই আসলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ। আপনি কী মনে করেন?

ইজাজ হোসেন : আমাদের গ্যাসফিল্ড থেকে উৎপাদিত গ্যাসের চাপ সাধারণত ১০০০ পিএসআই থাকে। পরে একটা স্টেশনের মাধ্যমে এই চাপ কমিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। সুতরাং ওই স্টেশনে গ্যাসের চাপ এমনভাবে অ্যাডজাস্ট করে রাখা হয়, যাতে মাত্রাতিরিক্ত চাপের গ্যাস কোনোভাবেই সরবরাহ হতে না পারে। ফলে ওইদিনের গ্যাসের যে চাপ ছিল সেটাই স্বাভাবিক। অন্যসময় গ্রাহকরা চাহিদামতো চাপে গ্যাস পান না। এতে রান্নাবান্নাসহ নানা কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

দেশ রূপান্তর : তিতাস আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের পরিস্থিতি কি এড়ানো যেত?

ইজাজ হোসেন : অবশ্যই সে সুযোগ ছিল। আগে থেকে সতর্ক হলে এই চাপ অ্যাডজাস্ট করা যেত সহজেই। কিন্তু যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি হয়তো লক্ষ করেননি। এটা এক ধরনের অসতর্কতা। প্রশ্ন হলো, পাইপলাইনে লিক থাকবে কেন? এটা তো ওই ইঞ্জিনিয়ারের দোষ না। লাইনে লিক আছে, এটা বিবেচনায় নিয়ে তো গ্যাসের চাপ কম-বেশি করা সম্ভব না। আসলে এসব লিক আগেও ছিল। কিন্তু গ্যাসের চাপ সমসময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকায় এতদিনে তা ডিটেক্ট হয়নি। তিতাস এখানে ধরা পড়ে গেছে। আরেকটা হতে পারে লিকগুলো আরও বড় হয়ে গেছে। কারণ প্রতি বছরই এই লিকগুলো বড় হয়।

দেশ রূপান্তর : আমরা কি তাহলে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি?

ইজাজ হোসেন : অবশ্যই। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে ওইদিনের (২৪ এপ্রিল) ঘটনার পর এটা প্রমাণ হলো আমরা সাংঘাতিক রকমের বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছি। আমরা দেখলাম- বিপুল পরিমাণ গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে- হয় একই জায়গায় অনেক লিক আছে, না হলে আকার অনেক বড়। কারণ লিকের পরিমাণ বেশি না হলে গন্ধ পাওয়া যেত না। এটা একটা বড় ঘটনা। অতীতে এমনটা কখনো হয়নি।

দেশ রূপান্তর : পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মাটির নিচে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় তিতাসের পাইপলাইন ছিদ্র করে ফেলে। এটা কি এক ধরনের সমন্বয়হীনতা? নাকি এর পেছনে কোনো কারণ রয়েছে?

ইজাজ হোসেন : আসলে তিতাসের লোকজন নিজেরাই জানে না, কোথায় কোথায় তাদের লাইন আছে। এটা তারা স্বীকারও করেছে। ৩০-৪০ বছর আগে যেসব লাইন বসানো হয়েছে, সেগুলোর কোনো হদিসই নেই। কোথা থেকে কোন লাইন কোথায় গেছে, তাও তারা জানে না। তিতাসের পুরো পাইপলাইনের সঠিক স্টাডি হওয়া দরকার। যেসব স্থানে ৩০ বছরের পুরনো পাইপলাইন রয়েছে, সেগুলো বদলাতে হবে। এগুলো ভালো না খারাপ না দেখার সুযোগ নেই। কারণ এতদিনে এসব পাইপলাইন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জিআইএস ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে তিতাসের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। যাতে অন্য কেউ কাজ করতে গেলে বুঝতে পারে, কোথায় কী অবস্থায় তিতাসের পাইপলাইন রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : তিতাসের পাইপলাইনের এই অব্যবস্থাপনা তো একদিনে হয়নি। এজন্য মূলত দায়ী কারা?

ইজাজ হোসেন : আমি এখানে তিতাসের প্রকৌশলীদের দায়ী করব না। তারা অনেক প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছেন। যারা ওপরের লেভেলে আছেন, যারা এসব জায়গায় অর্থায়ন করেন, কোথায় কী খরচ করতে হবে তা নির্ধারণ করেন তারাই মূলত এজন্য দায়ী। আসলে আমাদের দেশে একটা বাজে অভ্যাস হলো যতক্ষণ না একটা জিনিস নষ্ট না হবে তার আগে সেটার দিকে নজর দেওয়া হয় না। আবার এটি মেরামতের সময়ও সস্তায় কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে করা হয়। একটা জিনিস তৈরি বা স্থাপনের পর সেটা যে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে সেই ধারণাই আমাদের দেশে নেই। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে বাজেট দরকার যেটা যথাযথভাবে দেওয়া হয় না। এর কারণ হলো রাজনীতিবিদরা এসব পুরনো জিনিস সংস্কার করতে চায় না। তারা নতুন প্রকল্পে আগ্রহী বেশি। কেন আগ্রহী সেটা আমরা সবাই জানি। এখানে কী কী সুবিধা ভোগ করা যায় তা সবারই জানা। নতুন প্রকল্প করলে তো লোকজনকে দেখানো যায়। একজন নতুন এমপি হলেন, তিনি তো পুরনো কাজ রাখবেন না। বাংলাদেশে কেউই পুরনো স্থাপনা বা কাজ মেইনটেইন করার ব্যাপারে আগ্রহী নন। সবাই আগ্রহী নতুন প্রকল্পে। আসলে কোনো প্রকল্প শেষ হওয়ার পর, সেখান থেকে যে আয় হবে তা থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু অর্থ নিয়মিত জমা রাখতে হয়। না হলে কিছুদিনের মাথায় তা অকেজো হয়ে যাবে।

দেশ রূপান্তর : ঢাকায় যদি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, তাহলে তিতাসের এই জরাজীর্ণ পাইপলাইন ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। কারণ এই গ্যাস থেকে অগ্নিকান্ড ছড়িয়ে পুরো শহর অগ্নিকুন্ডে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা অনেকের। আপনি কী মনে করেন?

ইজাজ হোসেন : অবশ্যই ভূমিকম্পে বড় ঝুঁকি রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা তাদের গ্যাসের লাইন বন্ধ করতে পারবে না। হয়তো ঘটনা ঘটার এক ঘণ্টা পর করল। ততক্ষণে তো অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তিতাস তো ওইদিন (২৪ এপ্রিল) নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিছু করেনি। লোকজন অভিযোগ করার পর ব্যবস্থা নিয়েছে। মানুষ সবসময় তো জানানোর সুযোগ নাও পেতে পারে। তাছাড়া ঢাকায় যে পরিমাণ নানারকম দুর্গন্ধ তাতে অনেক সময় গ্যাসের গন্ধও বোঝা মুশকিল। ওইদিন যদি লোকজন গ্যাসের গন্ধ বুঝতে না পারত এবং সেই গ্যাস যদি আবদ্ধ স্থানে জমা হতো তাহলে কিন্তু বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ছিল। তিতাসের পাইপলাইন থেকে এখনো যে কোথাও গ্যাস জমা হচ্ছে না, তার কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ লিকেজ তো এখনো রয়েছে। ফলে আমরা বিশাল ‘এক্সপ্লোসিভের’ মধ্যে বসে আছি।

দেশ রূপান্তর : অভিযোগ রয়েছে ২৪ এপ্রিলের ঘটনায় তিতাসের একাধিক নম্বরে বারবার যোগাযোগ করেও তাদের সাড়া মেলেনি। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর অনেক পরে ঘটনাস্থলে তিতাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ইজাজ হোসেন : এটা অবশ্যই বড় ধরনের গাফিলতি। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তার ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি কেউ যদি মিথ্যে বা ভুয়া অভিযোগও করেন তারপরও সেটা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব তিতাসের। এটা তাদের কাজের অঙ্গ। নিরাপত্তার ব্যাপারে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

দেশ রূপান্তর : তিতাস প্রতি বছর মুনাফা করলেও গ্রাহক সেবা ও তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই উদাসীন। অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন। আপনি কী মনে করেন?

ইজাজ হোসেন : অনেক ক্ষেত্রেই তিতাসের উদাসীনতা রয়েছে। আসলে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে যে মুনাফা পায় তা ব্যাংকে ফিক্স্ড ডিপোজিট করে। সেই টাকা দিয়ে নিজেদের বোনাস, পিকনিক, ক্লাব তৈরি এমন নানা কাজে ব্যয় করে। তারা কখনো চিন্তা করে না যে, এটা জনগণের কাছ থেকে লাভ করেছি। সুতরাং এই টাকা নিয়ে জনগণের সেবা দিতে হবে। তারা একটা প্রজেক্ট করার সময় সরকারের কাছে টাকা চায়। না পেলে বলে, টাকার অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। এটা এক ধরনের অন্যায়। তিতাস উন্নত সেবা দেওয়ার পর, কিছু টাকা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু গ্রাহকের সেবার মান উন্নয়ন কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কোনো ব্যয় করবে না এটা তো হয় না।

দেশ রূপান্তর : গ্যাসের অবৈধ সংযোগের কারণেও বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটছে...

ইজাজ হোসেন : অবৈধ সংযোগ যারা নেয়, তারা অসতর্কতার সঙ্গে পাইপলাইন ফুটো করছে। এতে গ্যাস লিক হচ্ছে। প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ গ্যাস অপচয় হচ্ছে, যেটাকে সিস্টেম লস বলা হচ্ছে। বাস্তবে এই লস ২ শতাংশের বেশি কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়। তার মানে, বাকি ৬ থেকে ৮ শতাংশ গ্যাস চুরি ও লিকেজ। এরমধ্যে লিকেজ ২ শতাংশ হলেও বাকিটা চুরি। এই গ্যাসের পরিমাণ এবং দাম কিন্তু অনেক। গ্যাসের চুরি ও অপচয় বন্ধ করা গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। যা দিয়ে পুরনো লাইনগুলো সংস্কার করে গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় খুব সহজেই। এই কাজটা ধাপে ধাপে করা হলেও গত ১০ বছরে সবগুলো লাইন সংস্কার করা যেত।

দেশ রূপান্তর : কী কারণে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বন্ধ হচ্ছে না?

ইজাজ হোসেন : রাজনৈতিক কারণেই গ্যাসের অবৈধ সংযোগ টিকে আছে। যেসব জায়গায় অবৈধ সংযোগ রয়েছে সেখানে অত্যন্ত ক্ষমতাধর লোকজন রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে তিতাস ব্যবস্থা নিতে পারে না। প্রতিমন্ত্রী নিজেও বলেছেন। এর সঙ্গে তিতাসের কিছু অসাধু লোকজনও জড়িত। তারা সব সরকারের আমলেই ছিল, এখনো আছে। আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া এটা বন্ধ করা যাবে না। আমি এখানে তিতাসের প্রকৌশলীদের দায়ী করব না। তারা অনেক প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছেন। যারা ওপরের লেভেলে আছেন, যারা এসব জায়গায় অর্থায়ন করেন, কোথায় কী খরচ করতে হবে তা নির্ধারণ করেন তারাই মূলত এজন্য দায়ী। আসলে আমাদের দেশে একটা বাজে অভ্যাস হলো যতক্ষণ না একটা জিনিস নষ্ট না হবে তার আগে সেটার দিকে নজর দেওয়া হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত