প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনে

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দুয়ার খুলছে

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:০৫ এএম

চার দিনের জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অংশীদারত্বের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তিনি সেখানে গিয়েছেন। আগামীকাল সোমবার বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে সম্পর্কের এই সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি থাকবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বিশ্বের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এরই মধ্যে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের যে টানাপড়েন ছিল তারও অবসান হবে। তারা আরও বলেন, বিশেষ করে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস ও শেখ হাসিনার সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে পুরনো টানাপড়েনের অবসান হয়ে নতুন দ্বার উন্মোচন হওয়ার আভাস এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের বড় দুই চ্যালেঞ্জ ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সমাপনী অনুষ্ঠানের দিন কাল সকালে একটি আলোচনা সভা হবে। সেই সভায় শেখ হাসিনা ও ম্যালপাস বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরবেন। এরই মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক ঋণচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ঢাকায় বিশ^ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রথমপর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনে সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা নিয়ে একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আবার মূল অনুষ্ঠানের বাইরে সাইডলাইনে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরকারী একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ঋণ সহায়তা চুক্তির বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে। একাধিক প্রকল্পে দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি হতে পারে। আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ করে নেপাল ও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সড়কসহ দুটি প্রকল্পের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পে ৭৫ কোটি ডলার ঋণ আসতে পারে বিশ্বব্যাংক থেকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনও গতকাল সেখানকার স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় যাবে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। এ সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের বিষয়টিতে বিশ্বব্যাংক আরও বেশি নজরে রাখবে।

প্রসঙ্গত, আগামী চার বছরে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে উত্তরণে সহযোগিতা করতে প্রতি বছর দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে সংস্থাটি। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কের (সিপিএফ) আওতায় ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কালকের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হতে পারে।

ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি বিমান গত ২৮ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসির ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বাসস জানায়, বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. আহমেদ কায়কাউস। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাত দিনের সফর শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথ রাজ্যের রাজা ও রানী হিসেবে তৃতীয় চার্লস এবং তার পত্নী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকের জন্য ৪ মে লন্ডনের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত