কমিটিতে বাবা নেই, ইবি ছাত্রলীগ সম্পাদকের হুলস্থুল কাণ্ড!

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩, ০৮:৪৮ এএম

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কমিটিতে বাবাকে না রাখায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটিএম এমদাদুল হককে হেনস্তার করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৪ মে) বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে, বিকেল ৪টার দিকে অফিস শেষে কুষ্টিয়ায় নিজ বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সংলগ্ন এলাকায় সহকর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটিএন এমদাদুল হক। তার পাশেই লোকপ্রশাসন বিভাগের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান বাবা তোবারক হোসেন বাদলকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়।

নাসিম আহমেদ জয় সেখানে কর্মকর্তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি কে? কর্মকর্তা সমিতির সভাপতির নাম জানতে পারার পরে নাসিম তাকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষার কমিটিতে আমার বাবাকে রাখেননি কেন? তখন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০-৪৫০ এর মতো কর্মকর্তা। এটা প্রশাসনের কাজ, এর মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাদের প্রয়োজন মনে করেছে এমন ১০-১২ জনের নাম সিলেক্ট করে দিয়েছে। এজন্য নামটি বাদ পড়েছে। এতে আমার কোনো হাত ছিল না।

কথার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু ছাত্রলীগের মতেই চলবে, ক্যাম্পাসের সবকিছু ছাত্রলীগেই নিয়ন্ত্রণ করবে, এর বাইরে কোনো কিছু চলবে না। আমরা যা বলি তা করতে হবে। তখন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি বলেন, সবকিছু এত সস্তা না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রশাসনের একটা অংশ তারা তাদের রুলস রেগুলেশন অনুযায়ী চলবে। তোমরা ছাত্রলীগ কর তোমরা তোমাদের মতোই চল। পরে জয়, বাধন, শাহীনসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী কর্মকর্তা সমিতির সভাপতিকে মারতে উদ্যত হয়। এসময় গাড়িতে থাকা কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটিএম এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের আচরণে মানসিকভাবে আহত ও মনোক্ষুণ্ণ হয়েছি। তাদের এই অযাচিত আচরণ কোনোভাবেই সমর্থিত না। তাদের এরকম আচরণ চলতে থাকলে ছাত্রলীগেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

হেনস্তার ঘটনা অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, আমাদের সম্পর্কটা চাচা-ভাতিজার। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এর বাইরে কিছু না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত