ঝড়ে ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড নিহত ১, ফসলের ক্ষতি

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০১:২৮ এএম

নীলফামারী জেলা সদর ও জলঢাকা উপজেলায় তান্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে লন্ডভন্ড হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি-গাছপালা। পাশপাশি ৫১ বিঘা কলার বাগান দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের আঘাতে নিহত হয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূ।

ঝোড়ো বাতাসে আম, লিচু, কাঁঠাল, ভুট্টা ও বোরো ধানসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের স্থায়িত্ব কম হলেও কোথাও কোথাও বাতাসের বেগে ঘরবাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি উড়ে গেছে স্থাপনা।

নিহত গৃহবধূ রেনুফা বেগম (২৭) জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ শিমুলবাড়ি বেরুবন্দ গ্রামের আনারুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনার পর ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত সোমবার রাত ৯টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। এতে দুই উপজেলার মধ্যে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকাশকুড়ি গ্রাম ও জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ১, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর পশ্চিম ও দক্ষিণ বেরুবন্দ বাঁশদাহ গ্রামে অন্তত তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া শতশত গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ে। শতাধিক বিঘা বোরো ধান বিনষ্ট হয়।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জলঢাকার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বেরুবন এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, হঠাৎ করে প্রচন্ড ঝড় বাতাস শুরু হয়। এ সময় আমরা যে ঘরে অবস্থান করছিলাম সেটি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হলে অন্য ঘরে গিয়ে অবস্থান নেই। সেটি নড়বড়ে হয়ে গেলে স্ত্রী-মেয়েকে বাথরুমে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি বাইরে ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নিই। এই ঝড়ে আমার দুটি ঘর ভেঙে পড়ায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছি।

নিহত গৃহবধূ রেনুফার ভাই মমিনুর রহমান জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ঝড়ে ভাঙা গাছের ডাল সরাতে যায় রেনুফা। এ সময় বাড়ির পাশের ভেঙে যাওয়া ইউকালিপটাস গাছের ডাল টানতে গেলে আলতোভাবে আটকে থাকা সেই ডাল এসে বোনের মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রেনুফা।  সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, আকাশকুড়ি গ্রামের হাজিপাড়া মাস্টারপাড়া বাসরপাড়া সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যন হামিদুল হক জানান, তার ইউনিয়নে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শতাধিক বিঘা বোরো ধান বিনষ্ট হয়।

অপরদিকে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উড়ে গেছে টিনের ঘর-চালা। বেশ কিছু জায়গায় গাছপালা ভেঙে পড়ায় রাস্তায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গরু-ছাগল, হাস মুরগিসহ পোষা প্রাণীর ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার রাতে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ কুটিরপাড়, চৌধুরী বাজার, বালাপাড়া এলাকার  ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে গাছপালা ভেঙে ঘরবাড়ি ও রাস্তার ওপর পড়ে গেছে। উড়ে গেছে টিনের চালাসহ ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ এর সংযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গতকাল মঙ্গলবার পরিদর্শন করেছেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) রওজাতুন জান্নাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত