জয়পুরহাটের পাঁচবিবির রামভদ্রপুর দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা যেন এতিম তৈরির কারখানা। এ এতিমখানার ৩৩ জন শিশু শিক্ষার্থীর জীবিত বাবার নামে জাল মৃত্যুর সনদ তৈরি করে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এতিমখানার পরিচালক আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
জয়পুরহাট জেলার ২৬টি এতিমখানার ৪১৪ জন এতিম শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি মাসে দুই হাজার টাকা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাঁচবিবির রামভদ্রপুর দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বাবা জীবিত আছেন। কিন্তু এতিমখানা ও মাদ্রাসাটির সভাপতি ইউনুস আলী ও পরিচালক আবদুল খালেক তাদের বাবাদের নামে ভুয়া মৃত্যুসনদ বানিয়ে প্রতি মাসে তুলছেন সরকারি ভাতা। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী আবদুর রহমান, মাসুদ রানা, তানজিরুল ইসলাম তামিম, নাসিমুদ্দিন, আব্দুল্লাহসহ অনেক শিশু বলে, আমাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন। কিন্তু জীবিত বাবাকে মৃত বানানোর কারণে আমরা তাদের শাস্তি চাই।
শিক্ষার্থী আরাফাত বলে, এতিমখানার মামুদুল স্যার, জিয়া হুজুর, সুলতান স্যার আমাদের শিখায়া দিছে ‘উপর থেকে অফিসারেরা এসে যদি শুনতে চায় তাহলে কেউ সত্য কথা বলবা না, বলবা তোমাদের বাবা মারা গেছে, মা অন্য জায়গায় কাজ করে। আর যদি বেশি কিছু বলো তাহলে তোমাদের সমস্যা হবে।’ যারা এসব করেছে তাদের শাস্তি চাই।
ইব্রাহিম হোসেন, আনিসুর রহমান, নেজামুদ্দিনসহ অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের মাদ্রাসায় কোরআন-হাদিস পড়ে দ্বীনি এলেম অর্জন করার জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু তাদের মিথ্যা কথা বলা শেখানো হচ্ছে। আমাদের মৃত দেখিয়ে ছেলে-মেয়েকে এতিম বানিয়ে টাকা তুলে খাচ্ছে। চেয়ারম্যানের সই জাল করে মৃত্যু সনদ তৈরি করেছে। আমরা এদের কঠোর শাস্তি চাই।
এতিমখানাটিতে গিয়ে এর পরিচালককে না পেয়ে অন্য শিক্ষকদের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ‘কিছুই জানেন না’ বলে দ্রুত সটকে পড়েন।
রামভদ্রপুর দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ি কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক আবদুল খালেককে তার কার্যালয়ে না পেয়ে পরে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। আর ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে। মাদ্রাসার বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। অমি এখন সাক্ষাৎ করতে পারব না।’
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ইউনুস আলী বললেন, পরিচালক আমার স্বাক্ষর জাল করেছে। আমি ভাতার তালিকায় দেখি অনেকের বাবা বেঁচে আছে, সবাই আমার এলাকার, আমি চিনি। অস্বীকার করার কিছু নেই, দুর্নীতির ঘটনা অবশ্যই সত্য।
পাঁচবিবি বাগজানা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, আবদুল খালেক জালিয়াতি করে মৃত্যু সনদ গ্রহণ করেছেন এবং একই মৃত্যুসনদের নাম্বার ব্যবহার করে অনেকগুলো তৈরি করছেন। সমাজসেবা থেকে অনুদান গ্রহণ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঁচবিবি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহিনুর আফরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অধিকতর তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
