১৬ ইনিংসে ৯৩২ রান, ৭২ গড় ও ৯২ স্ট্রাইকরেটে দুর্দান্ত এক ডিপিএল কাটিয়েছেন নাঈম শেখ। ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো করে চলে এসেছেন ২০২৩ বিশ্বকাপ আলোচনায়ও। তার পারফরম্যান্সে শিরোপা পুনরুদ্ধার সহজ হয়েছে আবাহনীর। একটা সময় বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়া নাঈম ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসেস ও ভবিষ্যৎ চিন্তা জানালেন দেশ রূপান্তরের শিহাব উদ্দিনকে
দারুণ একটা ডিপিএল কাটালেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে কতটা তৃপ্ত?
নাঈম : আমি এর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ভালো করেছি। ৮০০ রানের মতো ছিল। এবার আলহামদুলিল্লাহ সাড়ে ৯০০ রানের ওপর (আসলে ৯৩২) করলাম। নিজের রেকর্ড নিজে ভাঙতে পারছি। এই প্রায় সাড়ে ৯০০ রানের মধ্যে অনেক কিছুই শিক্ষণীয় বিষয় ছিল, যা আমি মার্ক করে রেখেছি। ওগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করব। যেমন কাটিয়েছি এটা সত্যিই খুশি হওয়ার মতো।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান পাচ্ছিলেন না। বিপিএলটাও ভালো কাটেনি আপনার। এই সময়ে নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা কীভাবে নিয়েছিলেন?
নাঈম : যেকোনো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ভালো-খারাপ সময় আসে। সে যতই তারকা ক্রিকেটার হোক না কেন। কিন্তু ওই সময় ঘাবড়ে না গিয়ে সঠিক প্রসেসে থাকলে ভালো সময় আসবে। বিপিএলের আগে যে বিসিএল হয়েছিল, সেখানেও আমি ২০০ আপ রান করেছি এবং টুর্নামেন্টে সেরা হই। বাজে সময় থাকলেও প্রসেসের বাইরে যেতে চাইনি। আমি অনেক বাজে সময় পার করেছি, তখন নিজের সঙ্গে নিজে কাজ করেছি। মাইন্ড ট্রেনিং করেছি। অনেক জিনিস আমি নিতে পারতাম না, তা দূর করেছি। মাইন্ড ট্রেনিং করার জন্য একজনের সঙ্গে, ফুড হ্যাবিট মেনটেইন করেছি, জিম করেছি আলাদা একজনের সঙ্গে ফিটনেসের জন্য। এ ছাড়া এমন আমার কোচ সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আমি সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ক্রিকেট শুরুর সময়ের কোচ মোখলেছুর রহমান বাবলু স্যারের কাছ থেকে, শাহরিয়ার নাফিস, আফতাব আহমেদ ও নাঈম ইসলাম ভাইদের কাছ থেকে আমি সহযোগিতা পেয়েছি। ওনারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন। নাঈম ভাইয়ের মাধ্যমে আমার ডিপিএল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে। তো বাজে সময়টা পার করার জন্য ওনাদের সহযোগিতা আমার খুব কাজে দিয়েছে।
বিসিএল ও ডিপিএলে ভালো করলেন। আগে টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতেন। এখন ওয়ানডেতে ফোকাস করছেন কি না?
নাঈম : না, এ রকম কিছু না। আমি যখন যেই ফরম্যাটে খেলব বা জাতীয় দলে সুযোগ পাব, সেটাতে ভালো করতে চাইব। সাদা বল সব সময়ই আমার পছন্দের। লাল বলটা একটু চ্যালেঞ্জিং। এখন যে ‘এ’ দলের সঙ্গে আছি, এখানে লাল বলের বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করছি। আর সাদা বলে আমি যেকোনো ফরম্যাটে যেকোনো সময় খেলার জন্য, ভালো করার জন্য প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টি-টোয়েন্টিতে অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই তুলনায় ওয়ানডেতে কম আর টেস্টে তো মাত্র একটা ম্যাচ। আপনার কি মনে হয় আরেকটু সুযোগ পেলে তিন ফরম্যাটে নিজেকে প্রমাণ করতে পারতেন?
নাঈম : অবশ্যই, সুযোগ পেলে তো অবশ্যই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করব। এখন আমি সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছি। সুযোগ এলে নিজেকে প্রমাণ করবই। আর এমন না যে আমার অনেক বয়স হয়েছে। এখনো ক্যারিয়ারের পুরোটাই বাকি। যখন সুযোগ আসবে, তখন ভালো খেলার চেষ্টা করব। কিন্তু কম সুযোগ পেয়েছি বলে আক্ষেপ নেই। আমার বিশ্বাস, আবার জাতীয় দলে ডাক পাব।
আক্ষেপের দিকটা যদি বলি। এমন একটা সময় ওয়ানডেতে পারফরম করলেন, যখন এই ফরম্যাটের জন্য জাতীয় দলে ওপেনিং সেটআপ একরকম নির্দিষ্ট। আপনার কি মনে হয় যে একটু কঠিন সময়ে পারফরমটা এসেছে?
নাঈম : না, অবশ্যই এ রকম না। আমি ক্রিকেটার হিসেবে এভাবে ভাবব না। আমার কাজ ভালো খেলা। যে অবস্থায় যে সময়টায় আমি খেলব, সেখানে লক্ষ রাখি যেন সেরাটা খেলতে পারি। সামনে কী খেলা আছে না আছে, সেটা চিন্তা করে পারফরম করিনি। আমার টার্গেট ছিল ডিপিএলে ভালো খেলব, খেলেছি। আর এই চিন্তা বা কাজ কিন্তু আমার না যে আমি সুযোগ পাব কি না, সামনে কী আছে এসব। ভবিষ্যৎ না ভেবে আমি বর্তমানে যেটা আমার কাছে আছে, সেটার ওপর ফোকাস রাখা আমার দায়িত্ব। বাকিটা নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্টের।
বিশ্বকাপের পরে জাতীয় দলে ওপেনিংয়ে যদি কোনো জায়গা ফাঁকা হয়। সেটা নিজের করে নেওয়ার জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত?
নাঈম : না, অবশ্যই আমি এভাবে নিজেকে তৈরি করব না যে জাতীয় দলে এখন জায়গা খালি হবে, আমি চেষ্টা করতেছি নিজের ভিত যতটা শক্ত করা যায়। আমি যত শক্ত হব, তত আমার জাতীয় দলে ঢোকার জায়গা পোক্ত হবে। আমি নিজের উন্নতি নিয়ে কাজ করছি। জায়গা খালি হওয়ার বিষয়ে আমি কখনোই চিন্তা করিনি। আমি নিজের কাজ করেছি। আমার কাজ পারফরম করা, আমি করেছি। এখন অবশ্যই আমি সুযোগের অপেক্ষায় থাকব এবং সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেব।
উন্নতির কথা বলছিলেন। এবারের ডিপিএলে আপনার ইনিংসগুলো বেশ শুরু থেকেই গতিময় ছিল। আগে টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লেগেছে কি না?
নাঈম : গত বছরের ডিপিএলে ৭৮ স্ট্রাইকরেটে খেলেছি। আমি ডিপিএল শুরু করেছিলাম ৯০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে। যেবার ৮০০ রান করেছি, সেটাও ৯০ ছুঁইছুঁই ছিল। মাঝখানে যে কঠিন সময়টা ছিল জাতীয় দল থেকে বের হওয়ার পর, ওই সময়ে গত বছরটা পড়ে ছিল। ওই অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য আমি আমার ন্যাচারাল ব্যাটিংয়ের যতটা দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করেছি এবার। ওয়ানডেতেও এখন একজন ওপেনারকে ৮০-এর ওপর স্ট্রাইকরেটে খেলা উচিত। আমি এবারের ডিপিএলে সেই চেষ্টা করেছি।
কোচ হাথুরুসিংহের কথা যদি বলি, উনি পারফরমার ছাড়া দলে কাউকে রাখতে চান না। চেহারা দেখে দলে জায়গা না দেওয়ার বিষয়টা তো তিনি বলেছেন। এবার যে পারফরম করলেন, এটা হাথুরুর গুডবুকে যেতে আপনাকে কতটা সাহায্য করবে?
নাঈম : অবশ্যই এটা খুব ভালো কাজে দেবে। যেটা বললেন, অবশ্যই চেহারা নয়, আমার কাজকে মূল্যায়ন করা উচিত। দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে হলে সেরা পারফরম করা উচিত। আমি এনসিএল থেকে চেষ্টা করছি সেরাটা দেওয়ার। আমি বিশ্বাস করি যেহেতু পারফরমারদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে এবারের ডিপিএলটা অবশ্যই আমার জাতীয় দলে ফিরতে খুব কাজে দেবে।
