দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলা বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, পক্ষপাতহীন, অংশগ্রহণমূলক ও ঐতিহাসিক হবে। হাঁটুভাঙা বিএনপির কথা শুনবেন না। জনগণের সঙ্গে কথা বলুন।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি-জামায়াত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে এর প্রতিবাদে এ সমাবেশ করে তারা।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। সেখানে তারা সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন চান বলে জানান। বিএনপি এসব বৈঠকে জানিয়েছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
বিদেশি কূটনীতিবিদদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি যতই নালিশ করুক আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হবে। আপনাদের কারও এ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। হাঁটুভাঙা, কোমরভাঙা (বিএনপি) দল যতই কাকুতি-মিনতি করুক এদের প্রলাপ শুনে লাভ নেই।’
কূটনীতিকদের দেশের জনগণের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘কথা বলুন জনগণের সঙ্গে গিয়ে। এ নগরীতে জনস্রোতের মধ্যে কূটনীতিক বন্ধুরা আপনারা সিভিলে গিয়ে কথা বলুন, মানুষ কী চায়।’
প্রায় এক যুগ বিএনপির সম্মেলন হয় না দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরে কোনো সম্মেলন ছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল। আমাদের তিনটা সম্মেলন হয়েছে। ঘরে যাদের গণতন্ত্র নেই তারা দেশে গণতন্ত্র কীভাবে দেবে? কূটনীতিক বন্ধুদের বলব, এই কথাটা তাদের জিজ্ঞেস করুন। তাদের ঘরে গণতন্ত্র নেই কেন?’
‘সরকারের বৈধতা নেই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমাদের বৈধতা দেবে এই দেশের জনগণ। আমরা জনগণের বৈধতা নিয়ে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাব।’
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশ থেকে কেনাকাটা না করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাহস বঙ্গবন্ধুর কন্যার আছে। দেখেন না, কাউকে ছেড়েছুড়ে কথা বলে! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা সত্যের প্রশ্নে আপস করে না। অসত্যের কাছে নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি দিয়েছে, এটি আসলে অন্তিমযাত্রা। উপরে উপরে পদযাত্রা, তলে তলে সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আগুন সন্ত্রাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
বিএনপির দুটি গুজবের কারখানা আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি গুজবের কারখানা গুলশানে (বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়)। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। আরেকটি মিথ্যার কারখানা হচ্ছে নয়াপল্টনে (বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়)। সেখানে মাইক লাগিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।’
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দীপু মনি; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আফজাল হোসেন এবং ত্রাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
