মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ভাগাড়!

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ১২:৩৫ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর শহরের রেলগেটের পাশে গরুর হাট এলাকায় অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সুদৃশ্য ভবন। করোনার ভরা মৌসুমে ভবনটি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে ভবনটি অনেকটা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আর সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে আবর্জনা ফেলে রেখে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটিকে যেন পরিণত করা হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। এছাড়া, প্রতি সপ্তায় কমপ্লেক্সের সামনে বসে গরুর হাট।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটি এমন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে সচরাচর লোকসমাগম খুব কম হয়। এর আশপাশে ময়লার আবর্জনার ভরপুর স্তূপ। ভবনের সামনে গরুর হাট হওয়াতে এ ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কয়েকটি দোকান ভাড়া হলেও বেশিরভাগ দোকান এখনো তালাবদ্ধ। গোয়ালন্দ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরিতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা।

গোয়ালন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও এর আশপাশ ঘুরে দেখা যায়, ভবনের চারপাশেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। গোয়ালন্দ বাজারের সিংহভাগ আবর্জনা এই কমপ্লেক্সের পাশে এনে ফেলা হচ্ছে। তাছাড়া, গরুর হাট হওয়ায় এখানকার পরিবেশ পূতিগন্ধময়।

ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বেশিরভাগ দোকান ভাড়া হয়নি শুধু ভবনটি বাজার থেকে অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে হওয়ায়।

গোয়ালন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আশপাশে ময়লা আবর্জনা ফেলায় আর সামনে গরুর হাট হওয়ায় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, গরুর হাট এবং আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে নেওয়ার।

গোয়ালন্দ বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিক মিয়া বলেন, পৌরসভাকে জানিয়েছি, তারা বলেছে, নতুন জায়গা পেলে হাট সরিয়ে নেবে। কমপ্লেক্সের আশপাশে নতুন করে আবর্জনা না ফেলতেও আমরা বলেছি।

গোয়ালন্দ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফজলুল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের আগে থেকেই এখানে গরুর হাট বসে আসছে। এখন নতুন জায়গা পেলেই এই গরুর হাট সরিয়ে নেব। আর নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সাময়িকভাবে এখানকার ফাঁকা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত