হুমকিতে সদ্য সন্ধান পাওয়া জীববৈচিত্র্য

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ১০:৩১ পিএম

মহাসাগর-মহাঅরণ্যের অনেক কিছুই এখনো মানুষের অজানা। ঠিক এরকমই একটি বিশাল এলাকা প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটোন জোন (সিসিজেড)। সম্প্রতি ৫ হাজারেরও বেশি জীব-প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে এ এলাকায়। তবে সদ্য আবিষ্কৃত এই প্রাণবৈচিত্র্যের ভাণ্ডার রয়েছে বিলুপ্তির হুমকিতে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত বিস্তৃত ৬০ লাখ বর্গ কিলোমটার বিস্তৃতির এই অঞ্চলটিতে সামনের বছর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে খনিজসম্পদ অনুসন্ধানের তৎপরতা; আর তা শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই অস্তিত্বের হুমকিতে পড়বে এসব প্রজাতি। অঞ্চলটি খনিজে ভরপুর। এখানে কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল পাওয়া গেছে এবং বিপুল পরিমাণের আরও খনিজের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এই অঞ্চলেই মিলল প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সম্পদ জীববৈচিত্র্যের সম্ভার। গত বৃহস্পতিবার গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্লারিওন-ক্লিপারটন জোনে ৫ হাজার ৫৭৮টি প্রজাতির জীবের সন্ধান পেয়েছেন তারা। যার মধ্যে বিজ্ঞানীদের কাছে ৯২ শতাংশই নতুন।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম লন্ডনের সমুদ্রের পরিবেশবিদ মুরিয়েল রবোন বলেন, সিসিজেড থেকে সন্ধান পাওয়া নতুন প্রজাতিদের মধ্যে ৪৩৮টির নাম জানা গেছে। তবে এদের ৫ হাজার ১৪২টি প্রজাতিরই নাম অজানা। তিনি বলেন, এই জীবগুলো কোন প্রজাতির তা এখনো ব্যাখ্যা করা যায়নি। আমরা এখন পর্যন্ত এদের বংশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি কিন্তু প্রজাতি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিজেড অঞ্চলে নতুন যেসব প্রাণী পাওয়া গেছে সেগুলোর অধিকাংশই অর্থোপোডা বা সন্ধীপদী বর্গের প্রাণী। এই বর্গের যেসব প্রাণী আমাদের চারপাশে দেখা যায়, সেসব হলো কাঁকড়া, কাঁকড়াবিছা, চিংড়ি, প্রজাপতি, শতপদী ইত্যাদি। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর সমুদ্র তলদেশটি অবশ্য অচিরেই বড়ভাবে আলোড়িত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটোন জোনে খননকাজ চালাতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদনপত্র গ্রহণ করা শুরু করবে সমুদ্র তলদেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সি বেড অথরিটি। তারপর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে খননকাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত