জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ হিসেবে গোলাম রব্বানী অধ্যায় শেষ হওয়ার পথে। সহকর্মীদের মাধ্যমে বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছেন তার সিদ্ধান্তের কথা। ১ জুনের আগে পাঠিয়ে দেবেন পদত্যাগপত্র। আর তাই গতকাল থেকে মেয়েদের অনুশীলনে অনুপস্থিত বাংলাদেশের সাফজয়ী কোচ। এই অবস্থায় বাফুফে থেকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ করা হলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ছোটন। আগের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন।
তাকে ধরে রাখতে বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ তাকে ফোন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ছোটন, ‘কিরণ আপা মাকে ফোন দিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে অনুরোধ করেছেন, বাফুফের সাধারণ সম্পাদকও করেছেন। কিন্তু আমি আর বাফুফের অধীনে চাকরি করতে চাইছি না। সেটা তাদের বলে দিয়েছি। আমার ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। এবার আমি আর ফিরছি না।’
সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়ে বাফুফের তরফে কিছু বলা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, না, আমার তো কোনো দাবি-দাওয়া নেই। আমার একটাই চাওয়া, আমি এখানে আর থাকব না। দাবি-দাওয়া থাকলে আমি বলতাম। ওইভাবে আমার কোনো উদ্দেশ্য নেই যে দাবি-দাওয়া তুলে থেকে যাওয়া। আমি ১৭-১৮ বছরে কখনো দাবি-দাওয়ার আওয়াজ তুলিনি। ওনারাই যা করার করেছেন। আমি মেনে নিয়েছি।’
নারী দলের সঙ্গে সর্বশেষ তিনি ছিলেন বৃহস্পতিবার। সেদিনও খেলোয়াড়দের অনুশীলন করিয়েছেন। শুক্রবার ছুটির দিনে রিকভারি সেশন ছিল, কিন্তু কোচ যাননি। যাননি গতকাল। অনুশীলন করিয়েছেন সহকারী কোচেরা।
বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরশু ফোন করে সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেন কোচকে। তখনো ‘না’ করেছেন গোলাম রব্বানী। ২৯-৩০ মে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাফুফেতে এপ্রিল ও মে মাসের বেতন পাবেন। গত তিনটি ঈদে বোনাস পাননি বলেও তার অভিযোগ, ‘বোনাস আগে পেতাম। কিন্তু গত তিনটি ঈদে বোনাস পাইনি।’
বাফুফের সঙ্গে ১৭ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে গোলাম রব্বানী কেন সরে যাচ্ছেন, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। গোলাম রব্বানী বলছেন ক্লান্তি আর জবাবদিহির কারণে তিনি আর মেয়েদের কোচ থাকতে চান না। যদিও নারী ফুটবলেই থাকবেন। কোচ হিসেবে কোনো ক্লাবে কাজ করবেন।
শোনা যাচ্ছে, নারী ফুটবলের একটি বড় ক্লাব থেকে ভালো প্রস্তাব পেয়েছেন। আর সেটাকেই তিনি গ্রহণ করবেন বলে ঠিক করেছেন। সেটির আভাসও পাওয়া গেছে তার কথায়, ‘ছোটবেলা থেকে কখনোই বসে ছিলাম না। কাজ করেছি। আশা করি, এবারও বসে থাকব না।’
