বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী দখলমুক্ত করতে সেখানকার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দেওয়া প্রতিবেদন কয়েক বছরেও না আসায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। ডিসিরা রাজত্ব কায়েম করেছে কি না সে প্রশ্ন রেখে হাইকোর্ট বলেছে, তারা আদালতের আদেশ মানেন না। শুনানিতে প্রসঙ্গক্রমে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে আরও বলে, ‘বলে দেবেন, দেশ এটাই, এখানেই থাকতে হবে। লুট করে সব ইউরোপ-অ্যামেরিকা নিয়ে যাবেন, সব রেখে দেবে। পরিবেশটা সুন্দর রাখতে বলবেন।’
বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার শুনানিকালে এমন মন্তব্য করে। আদালত পরবর্তী শুনানি ও প্রতিবেদন দাখিল করতে ১৮ জুন দিন ধার্য করে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জুলফিয়া আক্তার ও সেলিম আজাদ। শুনানিতে হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে জানতে চায়। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জুলফিয়া প্রতিবেদনের জন্য সময়ের আরজি জানান। এ সময় রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ডিসিরা একধরনের খেলা শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অস্তিত্ব রক্ষায় আদলত অবমাননা সংক্রান্ত সংবিধানের প্রয়োগ আরও বাড়াতে হবে। এটি না করলে আইনের শাসন থাকবে না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বলে, ‘যদি আরও সময় নেন তাতেও হবে না। ডিসিরা রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা আদালতের আদেশ মানেন না। বলে দেবেন, যদি সম্মানের জায়গাটা ঠিক না হয় তাহলে কিন্তু জবাবদিহি করতে হবে।’
সন্ধ্যা নদীর তীর ভরাট করে আবাসন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। শুনানি নিয়ে ওই বছরের মে মাসে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেয় আদালত।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৫ বছর পার হলেও তারা কোনো প্রতিবেদন দেননি। বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আরও সময় নিয়েছে। আদালত এতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।’
