ফেডারেশন কাপ ফাইনাল

মোহামেডান ৪ আবাহনী ৪

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৫:২০ পিএম

১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠে এসেছিল মোহামেডান। স্বপ্ন দেখছিল শিরোপা জয়ের। তবে তাদের স্বপ্নে বড় আঘাত লেগেছিল প্রথমার্ধেই। মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে জমজমাট ফাইনালের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান মোহামেডানের মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয়ে ছিল আবাহনী। মোহামেডান ঘর সামলে চেয়েছে কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে। ১২ মিনিটে মোহামেডানের সামনে সুযোগ ছিল এগিয়ে যাওয়ার। মিনহাজুর আবেদীন রাকিবের কর্নার আবাহনী কিপার শহীদুল আলম সোহেল সোহেল ফ্লাইট মিস করলে ব্রাজিলিয়ান রজারের হেড আবাহনী ডিফেন্ডার আলমগীর মোল্লার হাতে লাগলে পেনাল্টির জোড় আবেদন জানান মোহামেডানের ফুটবলাররা। তবে রেফারি আলমগীর সরকার তাতে সাড়া দেননি।

এর চার মিনিট পর ফর্মের প্রমাণ রেখে আবাহনীকে এগিয়ে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফাহিম। কলিনদ্রেসের কাছ থেকে বল পেয়ে এমেকা ওগবা ডিফেন্সচেড়া পাস বাড়ান। চলন্ত বলে ফাহিমের বাঁ পায়ের শট মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনের গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায়। পিছিয়ে পড়া মোহামেডান তখন বেশ অগোছালোই ঠেকেছে। সুযোগটা কাজে লাগান কলিনদ্রেস। ৪৩ মিনিটে নিজেদের অর্ধ্ব থেকে হৃদয়ের বাড়ানো বল আয়ত্বে নিয়ে মার্কার হাসান মুরাদকে কোন সুযোগ না দিয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শটে বল দূরের জালে জড়িয়ে দেন কোস্টারিকান তারকা। যোগ করা সময়ে কলিনদ্রেসের ফ্রি-কিক সুজনের গ্লাভস ছুঁয়ে পোস্ট কাঁপিয়ে বাইরে যায়।

বিরতি থেকে ফিরে মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ তিনটি পরিবর্তন করে মাঠে পাঠান জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার ইমন ও আলমগীর রানাকে। তাতেই গতি পায় মোহামেডানের আক্রমনের। ৫৬ মিনিটে ২-১ করেন দিয়াবাতে। কামরুলের ক্রস হেড করে ঠিক মতো ক্লিয়ার করতে পারেননি আবাহনী ডিফেন্ডার আলমগীর মোল্লা। বক্সে বল পেয়ে তাতে দিয়াবাতের সাইডভলি জালে জড়ায়।

৬০ মিনিটে সমতাসূচক গোলটিও দিয়াবাতের। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভের জোড়ালো ভলি সোহেল রুখলেও বাঁদিকে জাফর ইকবাল পেয়ে দ্রুত ক্রস ফেলেন গোলমুখে। মার্কারদের ছাড়িয়ে দারুণ হেডে সোহেলকে পরাস্থ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন দিয়াবাতে।

৬৫ মিনিটে এমেকা ওগবাহর হেড পোস্টে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয় আবাহনীকে। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সুজন কোনমতে সেভ করলেও এমেকা আলতো ট্যাপে গোল করে আবাহনীর লিড পুনরুদ্ধার করেন। তবে ৮৩ মিনিটে কামরুলের কর্নারে দিয়াবাতে হ্যাটট্রিক করে মোহামেডানকে আবার ম্যাচে ফেরান। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে রাজীব হোসেন রাফায়েলের গড়ানো শট ঠেকিয়ে না দিলে ম্যাচটা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে যেতো না।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে পেনালটি পেয়ে যায় মোহামেডান। ১০৮ মিনিটে সেখান থেকে নিজের চতুর্থ গোল আদায় করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।

১১২ মিনিটে চোটে পড়েন মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন। তাকে নেমে যেতে হয়। তার বদলী হিসেবে নামেন দীপু। তারপরই রহমতের গোলে সমতায় ফেরে আবাহনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত