নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা হ-য-ব-র-ল

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩, ১২:৪০ এএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নবগঠিত বড়চওনা ও হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নে সম্প্রতি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় এক ইউনিয়নের ভোটার অন্য ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্বামী এক ইউনিয়নের ভোটার, স্ত্রী অন্য ইউনিয়নে। একই ব্যক্তির ছেলে এক ওয়ার্ডে, আরেক ছেলে অন্য ওয়ার্ডে। চলতি জুনের প্রথম সপ্তাহে এই দুটি ইউনিয়নে তফসিল ঘোষণা হচ্ছেÑএমন খবরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই বছর আগে বৃহত্তর কালিয়া ইউনিয়নকে ভেঙে বড়চওনা ইউনিয়ন ও বৃহত্তর হাতীবান্ধাকে ভেঙে হতেয়া-রাজাবাড়ি নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন করা হয়। গত ২৩ মে ওই চার ইউনিয়নে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

ওই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে (কতুবপুর শাপলাপাড়া) এলাকায় মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৫ জন। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪৯৭ ভোট। বাকি ৯৫৮ ভোটারের ৭০০ জনকে ভোট দিতে যেতে হবে ১০ কিলোমিটার দূরের কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে। বাকিদের যেতে হবে ১৫ কিলোমিটার দূরে আড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে এবং পাশের এক নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর রওশন আলী উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে।

কালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর (সাড়াসিয়া রামখাঁপাড়ার) ওয়ার্ডের ৩ হাজার ২০০ ভোটার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাসারচালা উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে এবং ৭ নম্বর (কচুয়া গ্রামের) ওয়ার্ডের ভোটাররা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়াসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে পড়েছে। 

অন্যদিকে, উপজেলার হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (রাজাবাড়ি গ্রামে) মাত্র ৩০০ ভোটার রয়েছে। আবার পাশের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (রাজাবাড়ি ও দেওয়ানপুর) ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০। ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক ভোটারকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা ইউনিয়নের টেকিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে।

বড়চওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এই ভোটার তালিকা অনুসারে নির্বাচন করতে হলে আমার ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে বাসারচালা এলাকায় অচেনা গ্রামে গিয়ে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমি ওই এলাকার ভোটার। ওই ভোটে আমার স্ত্রী আছিয়া বেগম ও আমার ছেলে আরিফ হোসেন আমাকে ভোট দিতে পারবে না। কারণ তারা বড়চওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক বলেন, চলতি জুনের প্রথম সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। দুদিনের মধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা সম্ভব। সংশোধন ছাড়া তফসিল ঘোষণা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত