আশ্রয়ণের ঘরে থাকতে ভূমিহীনদের অনীহা

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩, ১২:৪০ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কালিছালি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দেওয়া ঘরে থাকতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন ভূমিহীন মানুষেরা। প্রকল্পের ২৭৭টি ঘর নির্মাণ হলেও মাত্র ৮৪টি ঘর ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ ঘরে এখনো তালা ঝুলছে।

আশ্রয়ণ এলাকায় উপকারভোগী নির্বাচনসহ, কাজের ব্যবস্থা, সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েল এবং বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় ভূমিহীনরা ঘরগুলোতে বসবাস করছেন না। আর যারা আছে তারাও চলে যাওয়ার উপক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে কয়েক ধাপে কমলগঞ্জ উপজেলাতেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু উপজেলার সবচেয়ে বড় কালিছালি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য ৩ বছরে ২৭৭টি ঘর নির্মাণ হলেও মাত্র ৮৪টি ঘর ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১৯৩টি ঘর এখনো খালি পড়ে আছে। এতে করে ঘরগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বিদ্যুতের তার টানা হলেও মিটার সংযোগ হয়নি। যে সব ঘরে বিদ্যুৎসংযোগ ছিল, সেগুলোও বকেয়া বিলের জন্য কেটে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

অপরদিকে, ঘরের চাবি ও কাগজপত্র নেওয়ার পরও অধিকাংশ পরিবারই তাদের ঘরে ওঠেনি। যারা ঘরে ওঠেননি তাদের দাবি, যে জায়গায় ঘর দেওয়া হয়েছে এর পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তাদের বেশিরভাগ ঘরেই নেই বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা। প্রকল্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

গত বৃহস্পতিবার কালিছালি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গেলে দেখা যায়, প্রায় ২৭৮ ঘরের এ প্রকল্প এলাকায় মাত্র ৮৪টি ঘর ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হলেও বাস্তবে ৩০টি ঘরে বসবাস করছেন উপকারভোগীরা। বাকি ৫৪টি ঘরেই তালা ঝুলছে। তালাগুলোতেও জং ধরেছে। অধিকাংশ ঘরে বৈদ্যুতিক তার টানা হলেও, এখনো হয়নি মিটার সংযোগ। মিটার সংযোগহীন ঘরেও অনেকেই বসবাস করছেন। আশ্রয়ণ এলাকার সড়কধারে বাতির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হলেই তৈরি হয় ভুতুড়ে পরিবেশ। এ ছাড়া প্রকল্পে বসবাসকারীদের জন্য পাঁচটি পানীয় জলের নলকূপ নির্মাণ হলেও, সচল আছে দুটি। এতে খাবার পানি সংগ্রহ ও গোসলের সমস্যায় ভোগছেন উপকারভোগীরা। অনেকের ঘরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মিটারের মিলও নেই। ফলে উপকারভোগীরা একজনের মিটারের বিল অন্যজন দিচ্ছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার ও হালিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে আমাদের পানির খুব সমস্যা। দুঃখের বিষয় হলো, গোসলখানার চারপাশ খোলামেলা। গোসল করতে গেলে আমাদের মহিলাদের সমস্যা হয়।’

আরেক বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, ‘তিন মাস হয়ে গেছে এখানে এসেছি। পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি। তাই দুই রুমে গাদাগাদি করে কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। আশপাশে কাজের ব্যবস্থা না থাকায়, অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। এভাবে আর বেশিদিন থাকা সম্ভব নয়। অন্যদের মতো আমাদেরও চলে যেতে হবে।’

ভুক্তভোগী আছদ্দর মিয়া বলেন, ‘মিটার আমার, কিন্তু ঘরটি অন্যের নামে। আমার ঘর অন্য একজন তালা দিয়ে চলে গেছে। চেয়ারম্যান, মেম্বারকে বলেও কোনো সমাধান পাইনি।’

উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সদস্যসচিব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রইছ আল রিজুয়ান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানরা উপকারভোগী নির্বাচনে বিলম্ব করায় ঘরগুলো খালি পড়ে আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত