ইমন কাজী ও আল-আমিন উভয়ই অটোরিকশা চালাতেন। এই সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আল-আমিনের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন ইমন। একপর্যায়ে আল-আমিনের স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল-আমিনকে না জানিয়ে অটোরিকশাতে করে তার স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকবার ঘুরতেও যান ইমন। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ইমনকে হত্যার ছক আঁকেন আল-আমিন।
স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে বাসায় দাওয়াত দেন ইমনকে। পরে আল-আমিন কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন ইমনকে।
লাশ গুম করতে বস্তায় ভরে ফেলে দেন ঝোপের মধ্যে। ইমন হত্যায় জড়িত আসামি আল-আমিনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। গতকাল সোমবার রাতে বরিশালের হিজলা থানাধীন গোবিন্দপুর খন্না এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন রাজধানীর কদমতলীর পশ্চিম মোহাম্মদবাগ এলাকা থেকে ইমনের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ৩০ মে থেকে নিখোঁজ ছিল ইমন। এ ঘটনায় ইমনের বাবা মো. লিটন বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবির ওয়ারি বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে হত্যাকারী আল-আমিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক আল-আমিন জানিয়েছে স্ত্রীর সঙ্গে ইমনের পরকীয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠে সে। এছাড়া ইমনকে সে সুদে ৫০০০ টাকা দিয়েছিল। সেই সুদের টাকা ফেরত না দেয়ার বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে আল আমিন। বাসায় ডেকে নিয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ডিবি ওয়ারি বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, হত্যাকান্ডটি ক্লুলেস ছিল। লাশ উদ্ধারের এক দিনের মধ্যে আমরা হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ‘ঘাতক ভেবেছিল সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পারবে। এজন্য কৌশলে লাশ বস্তায় ভরে ফেলে রাখে যেন পচে গলে নষ্ট হয়ে যায়।’
