পটুয়াখালীর বাউফলে রাস্তা সংস্কারের নামে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে রাস্তার পাশের শতাধিক তাল ও খেজুরগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের কাজের সভাপতির বিরুদ্ধে। কাবিখার আওতায় প্রকল্পটি স্থানীয় দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মানুষকে দিয়ে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শ্রমিক সংকট দেখিয়ে সংস্কারকাজে এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বাউফল সদর ইউনিয়নের যৌতা গ্রামের আনছার বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ইসমাইল ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় উপজেলা পরিষদ। কাবিখা প্রকল্পের আওতায় এ কাজের জন্য ১৪ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। শর্ত অনুয়ায়ী স্থানীয় দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মানুষকে দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
সম্প্রতি ওই এলাকায় গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের সভাপতি সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করছেন। সংস্কারের নামে সড়কের দুই পাশে থাকা ৯২টি বড় আকারের তালগাছ ও ৫১টি খেজুরগাছ গত ৪ ও ৫ জুন এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে রাস্তার দুপাশে ফেলা রাখা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা বলেন, সংস্কার করতে গিয়ে রাস্তার মধ্যে থাকা কিছু তালগাছ ও খেজুরগাছ কাটা হয়েছে।
বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে রাস্তার পাশের পরিবেশবান্ধব তালগাছ ও খেজুরগাছ কাটা ঠিক নয়। বাউফল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাস বলেন, রাস্তা সংস্কার করতে বলা হয়েছে, গাছ কাটতে বলা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বায়েজেদুর রহমান বলেন, কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু সরকারি নয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ কাটতে হলেও অনুমতি নিতে হবে। সড়ক সংস্কারের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বা দায়িত্ববোধ এড়িয়ে গাছ নিধন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
