গত প্রায় এক বছরে দেশের বাজারে ডাল, চাল, আলু থেকে শুরু করে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম ব্যাপকহারে বেড়েছে। বাজার সরবরাহ ঠিক থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে লাফিয়ে বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বছরজুড়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এসব পদক্ষেপ ভোক্তা পর্যায়ে তেমন কোনো কাজে আসেনি।
উল্টো ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কিছু কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। যার প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা অধিকার কিংবা টিসিবি কোনো প্রতিষ্ঠানই বাজার মূল্যে প্রভাব রাখতে পারেনি।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত এক বছরে দেশের বাজারে চাল, ডাল, আলু, বেগুন, মরিচ, মাছ ও গরুর মাংসসহ সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি কাঁচা মরিচে ৩৩৩ শতাংশ ও ডালের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ।
চাল : গত এক বছরের ব্যবধানে ১৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা করে। টাকার হিসাবে চাল কেজিতে ১০ টাকা, মাঝারি ও মোটা চাল ৫ টাকা বেড়ে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসুর ডাল : এক বছর আগে ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া মসুর ডাল কেজিতে ২৮ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও এলসি জটিলতার দোহাই দিয়ে আমদানি করা এ পণ্যটিরও বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ব্যবসায়ীরা।
মাছ : মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশে^র দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। তবুও দিন দিন মাছের দাম বেড়েই চলছে। চলতি বছরে গড়ে সব ধরনের মাছ কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। এক বছরের হিসাবে ৮০-১০০ টাকা। গত বছরে ২৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকা। যা কয়েক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ২৮০-৩০০ টাকা।
মাংস : মাংসের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, যা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৫৮০ টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে এক কেজি গরুর মাংসে ২২০ টাকা বেড়েছে। এক বছরে খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা থেকে এখন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি : দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হওয়া সবজির বাজারেও সিন্ডিকেট। তবে দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতার লালসা বেশি ভূমিকা রাখছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় সবকটি সবজির দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। গত এক বছরের ব্যবধানে ৩৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, পেঁপের মতো বেগুনের কেজিতে ৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। ২০২২ সালে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া মরিচও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা করে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি মরিচের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা।
আলু : আলু উৎপাদনে বিশে্বর সপ্তম হলেও দেশের বাজারে এই পণ্যটি এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকা করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। এক বছর আগে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ১৫-২০ টাকা।
এর বাইরে গত এক বছরে সব ধরনের আটা-ময়দার দাম গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। শিশুখাদ্য গুঁড়োদুধের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত।
