বরগুনার আমতলীর পায়রা নদীতে বাগদা-গলদার পোনা সংগ্রহের সময় নির্বিচারে নিধন চলছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা (রেণু)। মশারি, নেটের খুচনি জাল দিয়ে আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিন এভাবে চলছে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কার্যক্রম। অথচ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো নজরদারি নেই।
জানা গেছে, একটি খুচনি জালে প্রতিবার ৮-১০টি চিংড়ির রেণুর সঙ্গে টেংরা, পোয়া, তপসিসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা উঠে আসে। চিংড়ির রেণু আলাদা করে পাত্রে জিইয়ে রাখলেও ডাঙায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য প্রজাতির রেণু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্বিচারে মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ। উপজেলার বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রজাতির রেণু পোনা আহরণ ও পরিবহন করা হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেদার চলছে বাগদা ও গলদার পোনা শিকার। শতাধিক জেলে রাত-দিন পায়রার বিভিন্ন স্থান থেকে গলদা-বাগদার রেণু পোনা ধরছেন। এর সঙ্গে যুক্ত আছে আড়তদার ও ঘের মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোক। গলদা চিংড়ির আড়তদাররা জেলেদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অল্প টাকায় রেণু পোনা শিকার করতে বাধ্য করছে। সংশ্লিষ্টরা পোনা শিকারের বিষয়টি ‘বিনিময়সূত্রে’ দেখেও না দেখার ভান করছে।
পায়রা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বৈঠাকাটা, চাওড়ার ঠোডাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রেণু পোনা দেদার ধরা ক্রয় ও বিক্রয় হচ্ছে। বিশেষ জাল ও ভাসা জাল দিয়ে চলছে পোনা শিকার। কিন্তু পোনা শিকার করতে গিয়ে প্রতিদিন অন্যান্য প্রজাতির অসংখ্য মাছের রেণু পোনা এবং মাছের জলজ খাদ্যকণা বিনষ্ট করে চলছে শিকারিরা। এতে নদীতে এসব মাছ বিলুপ্ত ও খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
মৎস্য বিভাগের সূত্রমতে, মাত্র একটি চিংড়ি পোনার জন্য পোনা শিকারিরা দুই শতাধিক অন্যান্য জাতের মাছের রেণু পোনা মেরে ফেলছে। ফলে নদীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদী থেকে বেপরোয়া চিংড়ি পোনা নিধন বন্ধে ২০০১ সালে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা কার্যকরে মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা নেই।
এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন আমতলী তালতলীর বিভিন্ন এলাকার পোনার পাতিল পাচার হয়। আড়তদাররা এ পোনা ট্রাকে করে খুলনা, মোংলা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়। এই পোনা নিধন দিনের পর দিন চলতে থাকলে অনেক প্রজাতির মাছ এই উপকূলীয় এলাকা থেকে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী জানান, গলদা ও বাগদার রেণু চালান করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে টাকা দিতে হয়।
আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সর্দার বলেন, রেণু পোনা ধরা ও পরিবহন করা আইনগত অপরাধ। সরেজমিনে পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব মোবাইল ফোনে জানান, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অবৈধ মৎস্য শিকারি, রেণু পোনা ধ্বংসকারী ও আড়তদারদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
