করের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সিমেন্ট শিল্প

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩, ০৫:৩৯ এএম

অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর, অসমন্বয়যোগ্য অগ্রিম আয়কর, জ¦ালানি সংকট, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, ডলারের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী সমস্যায় দেশের সিমেন্ট শিল্প খাত বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ‘ক্লিংকার’-এর ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করায় শিল্পটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বিসিএমএ সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির।

আলমগীর কবির বলেন, ব্যাংকে এলসি খুলতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। একেক ব্যাংকে ডলারের একেক দর। আমদানির এলসি খোলার সময় ডলার ১০৮ টাকা দরে থাকলেও পরিশোধের সময় তা কিনতে হচ্ছে ১১৪-১৫ টাকায়। ব্যাংকগুলো কারা চালায় আর কারা নিয়ন্ত্রণ করে জানি না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম কমলেও জাহাজ ভাড়াসহ পরিবহণ খরচ আগের মতোই রয়েছে। পাশাপাশি দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বাজারে সিমেন্টের দাম কমানো সম্ভব নয়। সিমেন্ট ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ক্লিংকারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত (প্রতি টন ৭০০ টাকা) কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা প্রতি টনে ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রতি টন ২০০ টাকা ধার্য করার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমান বাজেটে কাস্টমস ডিউটি না কমিয়ে, উল্টো প্রতি টনে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এ উদ্যোক্তার মতে, কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামালের কাস্টমস ডিউটি সাধারণত আমদানি মূল্যের ওপর প্রায় ৫ শতাংশ হয়। কিন্তু ক্লিংকারের ওপর সম্প্রতি বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি টনের ওপর ৭০০ টাকা কাস্টমস ডিউটি ধার্য করার ফলে, কাস্টমস ডিউটি দাড়ায় আমদানি মূল্যের প্রায় ১২-১৩ শতাংশ। 

তিনি বলেন, কাস্টমস ডিউটি বৃদ্ধির বিষয়টি সিমেন্ট শিল্প মালিকদের কাছে অসামঞ্জস্য বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সিমেন্টের বাজারে ভোক্তা-সাধারণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সার্বিক নির্মাণ কার্যক্রমে গতি হারানোর উপক্রম হতে পারে।

আলমগীর কবির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি আমদানি পর্যায়ে এআইটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ধার্য করা যেতে পারে, কিন্তু এআইটিকে কোনোক্রমেই চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন হবে না। এটি সমন্বয়ের সুযোগ রাখার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছি। 

তিনি বলেন, আমদানি পর্যায়ে ছাড়াও বর্তমানে বিক্রয় পর্যায়েও ২ শতাংশ হারে এআইটি ধার্য করা হচ্ছে। এটিকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা দীর্ঘর্দিন ধরে দাবি করে আসছি বিক্রয় পর্যায়েও সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এআইটি প্রাথমিকভাবে ধার্য করার।

এ শিল্পের অন্যান্য সংকটের কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ডলার সংকটের কারণে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে বিঘœ হচ্ছে এবং খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এলসি খুলতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে সিমেন্ট খাতের শিল্প মালিকরা। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন বিঘ্ন হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সিমেন্টের স্থানীয় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

মো. আলমগীর কবির সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি এই খাতটিকে ‘অগ্রাধিকার খাত’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়; তাহলে সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের এই দুরবস্থা কিছুটা হলেও কমবে এবং দেশের সিমেন্ট শিল্প খাত সুরক্ষিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত