দেশের ২৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযোজিত হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানান, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা ২০১৭ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১ হাজার ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৯৪৫ মেগাওয়াট।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্তগ্রিডে যুক্ত হবে
প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য হাজী মো. সেলিম।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত ৯৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৫৮০ মেগাওয়াট এবং নেট মিটারিংয়ের আওতায় আরও ৭১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত আছে। অর্থাৎ বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভ এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানিসহ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৭ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট। এ পর্যন্ত গত ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। ২০০৮ সালে সরকার দায়িত্ব গ্রহণকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট ও প্রকৃত উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম নিবিড় তদারকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে দেশে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৮ জন। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মোট আয় ২৯ হাজার ১০৫ কোটি, মোট ব্যয় ২৯ হাজার ২৮ কোটি এবং নিট ক্ষতি ৫২৪ কোটি টাকা।
