বাগাতিপাড়ায় অরক্ষিত পাঁচ রেলক্রসিং

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩, ০৬:৩৬ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আবদুলপুর-পার্বতীপুর ও আবদুলপুর-রাজশাহী দুই রুটে রেললাইনের ১০ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে পাঁচটিই অরক্ষিত। এসব ক্রসিংয়ে কোনো গেট বা গেটম্যান নেই। উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ফলে এসব লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত ১১ জুন উপজেলার হাড়ভাঙ্গী অরক্ষিত রেল ক্রসিং দিয়ে পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল যাত্রী এক দম্পতি মারা যান। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী এসব অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে গেট ও গেটম্যান দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আর কত প্রাণ ঝরলে এসব অরক্ষিত রেল ক্রসিং নিয়ে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি ও লোকমানপুর দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে আবদুলপুর থেকে রাজশাহী অভিমুখে লোকমানপুর রেলস্টেশনের দুই পাশে মাড়িয়া নিংটিপাড়া, হাড়ভাঙ্গী, মালিগাছা, গাঁওপাড়া ও ঝিনা এলাকায় পাঁচটি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এগুলোর সবগুলোই অরক্ষিত। রেলের কর্মকর্তারা এই ক্রসিংগুলোকে অনুমোদনহীন বলে অভিহিত করলেও স্থানীয়রা বলছেন ক্রসিংগুলো বেশ পুরনো এবং এগুলোতে ব্যাপক মানুষের চলাচল রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের লোকমানপুর রেলস্টেশন ও তার পাশের বাজার বেশ পুরনো। উপজেলা সদরে যাতায়াতে অসংখ্য মানুষের এই রেলক্রসিং ব্যবহার হয়। এ ছাড়া এই রেলক্রসিং পার হয়ে একাধিক স্কুল, কলেজে প্রতিদিন অসংখ্য ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। এ বিষয়ে চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৫০ বছর। জন্মের পর থেকেই এই বাজার ও রেলস্টেশন দেখে আসছি। কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি থাকলে এখানে অনেক আগেই গেটম্যানের ব্যবস্থা হতো।’

রেলক্রসিং সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায়ই এসব অরক্ষিত উন্মুক্ত রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রায় দুই বছর আগে মাড়িয়া নেংটিপাড়া রেলগেটে চিথলিয়া গ্রামের ফজিলা নামে এক গৃহিনী কাটা পড়েন। একই বছরের ১৩ জুলাই অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ওই ক্রসিংয়ে কাটা পড়েন। এর দুদিনের মাথায় আইয়ুব আলী নামে আরও একজন সেখানে ট্রেনে কাটা পড়েন। সবশেষ গত ১১ জুন রবিবার দুপুরে মোটরসাইকেলে করে পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মফিজুল ও সাবিনা নামে এক দম্পতি একসঙ্গে প্রাণ হারান।

হাড়ভাঙ্গী রেল ক্রসিংয়ের পাশেই ভোলা আলীর চায়ের দোকান। প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে দোকান চালানোয় এই স্থানটি তার নামে অর্থাৎ ভোলার মোড় নামেও পরিচিতি পেয়েছে। জানতে চাইলে ভোলা আলী বলেন, ‘কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকায় এই ক্রসিংয়ে প্রতি বছরই ৪ থেকে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।’

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘এই ক্রসিংগুলো সরকার অনুমোদিত নয়। সেগুলো নিয়ম মেনে করা হয়নি। সড়ক বিভাগ ইচ্ছেমতো এসব ক্রসিং বানিয়েছে। এমনিতেই রেলের জনবল কম। এগুলো রেল বিভাগের তালিকায় না থাকায় জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি গেজেটে নথিভুক্ত সড়কগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে পাকাকরন কাজ করা হয়ে থাকে। ওই সড়কগুলোও একই নিয়মেই করা হয়েছে। সমস্যার সমাধানে গত দুই বছর আগে রেল এবং সড়ক বিভাগ যৌথভাবে উপজেলার অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো জরিপ করেছেন। কিন্তু তার ফলাফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত