নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সোনারগাঁ গ্রিডের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সোনারগাঁয়ে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নামায় চলমান লোডশেডিং বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সোনারগাঁ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে সকালে সোনারগাঁ গ্রিডের একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়। যে ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়েছে সেটি থেকে সোনারগাঁ গ্রিডে ৫০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতো, যা বর্তমানে যুক্ত হচ্ছে না। সোনারগাঁ গ্রিডে মোট পিক লোড ১১০ মেগাওয়াট। কিন্তু একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়াতে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। এতে লোডশেডিং দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই চলমান লোডশেডিংয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকে না। তার সঙ্গে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে ট্রান্সফরমার নষ্টের ঘটনা। এতে সোনারগাঁয়ে লোডশেডিংয়ের অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তীব্র তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও হোটেল-রেস্টুরেন্টেও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
সোনারগাঁ পৌর এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এমন ভয়াবহ গরমে ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সোনারগাঁ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম আহমেদ বলেন, ‘সোনারগাঁ গ্রিডের নষ্ট পাওয়ার ট্রান্সফরমার পরিবর্তন এবং ক্যাপাসিটি বর্ধনের কাজ চলছে। এজন্য সোনারগাঁ পৌরসভাসহ মোগরাপাড়া, শম্ভুপুরা, পিরোজপুর, বৈদ্যেরবাজার, সনমান্দি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আশা করছি আগামী ২৪ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারব। এরপর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
