ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন বঞ্চিতের ক্ষোভে রাজনীতি থেকে ইস্তফার ঘোষণা দিয়েছেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মোল্লা। গতকাল শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রকাশ্যে রাজনীতি থেকে ইস্তফার ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন ভোগের কোনো মূল্যায়ন নেই। নব্য-হাইব্রিডদের অবৈধ অর্থের কাছে আজ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা অসহায়।
পদ-পদবি যে সংগঠনে টাকায় বিক্রি হয় সেই সংগঠনে আমার রাজনীতি করার সুযোগ নেই। আমি দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করছি।’
ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত তৃণমূলের প্যানেল তৈরিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি আরও জানান, তার নির্বাচনী মাঠের জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হয়নি। অর্থের বিনিময়ে কনিষ্ঠ যুবলীগ নেতার নাম ১ নম্বরে এবং তার (দেলোয়ার হোসেন মোল্লা) নাম ২ নম্বরের তালিকায় দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও অসম্মান করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, মৌখিকভাবে শুনেছি, এখনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। এটা হয়ে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক। তবে মনোনয়নের বিষয়ে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই। এসব অভিযোগ তার মনগড়া।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, পদত্যাগের কাগজ পাইনি। মনোনয়নের ব্যাপারে দেলোয়ারের নাম সম্মানের সঙ্গে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশপত্রও দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। মনোনয়ন না পাওয়ায় মনগড়া অভিযোগ করছেন তিনি।
আগামী ১৭ জুলাই দুমকির লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট।
