পাকা সেতুর কাঠের পাটাতন

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ০১:৪১ এএম

সেতুর মাঝখানের একাংশ ভেঙে পড়েছে। ফলে কাঠের তক্তা বসিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ছয় গ্রামের মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এক বছর ধরে এই চিত্র দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভোলভোলা খালের সেতুটির। কিন্তু সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, বছরখানেক আগে সেতুটির মধ্যভাগের লোহার অ্যাঙ্গেল ও সিমেন্টের স্লাব ভেঙে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা সেতুর মধ্যভাগের ভাঙা অংশে কাঠের পাটাতন দিয়ে চলাচল চালু রাখেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা হয়নি। সেতুটির মধ্যভাগের লোহার কাঠামোর মেইন পোস্ট হেলে গিয়ে টপ স্লাব দেবে গেছে। নড়বড়ে এ সেতু দিয়ে পারাপারে ছয় গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ হুমকিতে রয়েছেন। সেতুর দুই পাড়ের মানুষ ভারী কোনো মালামাল নিয়ে গাড়ি আনা-নেওয়া করতে পারেন না। পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলাচল করলে দোলনার মতো দুলতে থাকে সেতুটি।

দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বৈঠারপাড়ায় অবস্থিত চন্দ্রদ্বীপ গ্রামের সংযোগ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই ভাঙা সেতু দিয়েই চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির মাঝখানে ফাটল ধরে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চলাচলের জন্য কাঠের তক্তা দিয়ে ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। আর তাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী।

চন্দ্রদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা বেগম জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে ভয় লাগে।

সেতুটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, চন্দ্রদ্বীপ থেকে এই সেতু পার হয়ে প্রতিদিন কলেজে যেতে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, ভয় লাগে কখন ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন সহস্রাধিক মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা, প্রাইভেট কার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন সেতুটি দিয়ে চলাচল করে। এতে দিন দিন সেতুটি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাধারণ রিকশা ও অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বিশেষ করে চালের বস্তা নিয়ে বাড়ি যেতে খুবই ভয় হয়। কয়েকদিন আগে রিকশা নিয়ে সেতু পারাপারের সময় পড়ে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এই সেতু দিয়ে বাজারে যেতে হয়।

পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মফিজুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান বলেন, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ভাঙা অংশটুকু সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ছয় মাস আগে চাহিদাপত্র নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখনো সংস্কার হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ বলেন, পরিদর্শন করেছি। সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে সেতুর কাজ শুরু করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত