একদিকে দরপতন অপরদিকে লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংকটে পড়েছেন যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় আসন্ন কোরবানির ঈদের চামড়া কিনে বিক্রি করতে গিয়ে লাভ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। অপরদিকে, লবণ ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির জন্য দুষছেন কক্সবাজারের সিন্ডিকেটকে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। এখানে ছোট-বড় মিলে ৩ শতাধিক চামড়ার আড়ত রয়েছে। সারা বছরই এ হাটে চামড়া বেচাকেনা হলেও কোরবানির ঈদের মৌসুমি বাজার ধরতে অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে চামড়া সংরক্ষণের প্রধান অনুষঙ্গ লবণের দাম।
রাজারহাটে চামড়া নিয়ে আসা মন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ৫০ থেকে ৭০ পিস করে প্রতি হাটে চামড়া নিয়ে আসি। আজ ১০ পিস মাল নিয়ে এসেছি, আমার স্রেফ দুই হাজার টাকা লস। যে মাল ছিল ৫শ টাকা দাম, আজ তা ৩শ টাকা। ৮শ টাকার মাল আজ বেচাকেনা হচ্ছে ৬শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা। আবার লবণের মূল্য এখন সব থেকে বেশি। ১৩শ থেকে ১৪শ টাকা বস্তা লবণ। এক একটা চামড়ার পেছনে আমাদের দেড়শ থেকে দুইশ টাকা খরচ হয়। এখন চামড়ার থেকে লবণের দাম বেশি।
অপর ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ বলেন, চামড়া ভালো রাখতে গেলে লবণ দরকার। চামড়ার অরজিনাল জীবনই হচ্ছে লবণ। এই লবণ নিয়েই আমরা সংকটে আছি। গত বছর আমরা লবণ কিনেছি ৬ থেকে ৭শ টাকা বস্তা। আর এ বছর ১৪ থেকে ১৫শ টাকা বস্তা। চামড়া নিয়ে আমরা ৭-৮ বছর ধরে সংকটে আছি। এই চামড়ার দিকে যদি সরকার একটু তাকায়, আর এই লবণের দিকে, তাহলে ব্যবসা একটু ভালো হবে।
হাটে ছাগলের চামড়া নিয়ে এসে হতাশ নির্মল দাস বললেন, আজ এই কানে মুড়া দিয়ে যাচ্ছি এই হাটে আর আসব না। ১৩০ টাকা ৪০ টাকায় যা বেচি আজ বেচেছি ৭৫ টাকায়।
রাজারহাটের চামড়ার আড়তদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ৭০ কেজির এক বস্তা লবণ যদি ১৪শ টাকা দিয়ে কিনতে হয় তাহলে এই ব্যবসায় আমাদের খুব সমস্যায় পড়তে হবে। চামড়ার বাজার দিন দিন কমে যাচ্ছে।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, দিনমজুরদের মূল্যবৃদ্ধি এবং লবণের দাম সব মিলিয়ে একটা খারাপ অবস্থা আমরা পার করছি। এবারে যে পরিমাণ গরম তার মধ্যে যদি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে সময়মতো কাঁচা চামড়ায় লবণ দিতে হবে।
তবে যশোরের ব্যবসায়ীরা বলছেন লবণের দাম বৃদ্ধিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। রাজারহাট এলাকার পাইকারি লবণ বিক্রেতা ইমরান হোসেন পাপ্পু জানান, আমরা লবণ কক্সবাজার থেকে আনি। লবণের দাম বস্তাপ্রতি ৭শ টাকা থাকলে কোরবানির সময় ১২শ-১৩শ টাকা হয়ে যায়। কক্সবাজারে যারা লবণের সিন্ডিকেট আছে তারা লবণের দাম বাড়িয়ে দেয়। লবণের মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলছে লবণ নেই, লবণ সংকট।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, বিসিকের তরফ থেকে যেটা জানি এই মুহূর্তে চাহিদার তুলনায় লবণের উৎপাদন বেশি আছে। বাজারে ক্রাইসিস হওয়ার কথা না। বিসিকের কর্মকর্তা, ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, পুলিশ সবাই মিলে এটা মনিটর করব। আশা করি সমস্যা হবে না।
