গাইবান্ধায় কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙন

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ১১:১৬ এএম

গাইবান্ধায় নদ-নদীগুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা নদী তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন আবাদি জমিসহ অনেক বসতবাড়ি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী মানুষ।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া, ঘাঘট নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজলার তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার, করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দক্ষিণ দিকে স্রোত বইছে। স্রোতে মাটি ও কচুরিপানা ভেসে যাচ্ছে। পানি সামান্য কমেছে। পানি কমার ফলে নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যে সব এলাকায় সিসি ব্লক দিয়েছে সেসব এলাকায় ভাঙেনি। এছাড়াও জিও ব্যাগ দেওয়া এলাকাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কারেন্ট বাজার এলাকাতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। সুন্দরগঞ্জের খেয়াঘাট, বোচাবাড়ি, পারাসাদুয়া, সাঘাটার মুন্সির হাট এলাকা, ফুলছড়ি রতনপুরের কিছুু অংশ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শত বিঘা জমি।

রতনপুর গ্রামের বানিয়াপাড়ার ফুল মিয়া বলেন, এই জীবনে তিন বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। সর্বশেষ বানিয়াপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। পানি বাড়লেও নদী ভাঙে কমলেও ভাঙে। সোমবার (২৫ জুন) থেকে এখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি ১২ শতক জমিতে নেপিয়ার ঘাস করেছিলাম। প্রায় সবটুকুই নদী গর্ভে চলে গেছে। শুকনা মৌসুমে জিও ব্যাগ দিলে নদীর তীর ভাঙতো না।

গাইবান্ধা পানি উনয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিবার্হী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বলেন, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া, তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জিও ব্যাগ প্রস্তুত করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে থেকেই ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত