ভৈরবে নৌকা তৈরি বেচাকেনার ধুম

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৩, ০১:০৭ এএম

গ্রামাঞ্চলের বর্ষার বাহন কোশা নৌকা তৈরি আর বেচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ হাট-বাজার। ষড়ঋতুর অন্যতম বর্ষাকালে হাওর বা নিম্নাঞ্চলের মানুষের চলাচলের যোগ্য বাহন এই কোশা নৌকা।

ইতিমধ্যে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যাওয়ায় ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় এই কোশা নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগর, ব্যবসায়ী আর ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে নৌকা তৈরির এলাকাগুলো। তৈরিকৃত এসব কোশা স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, কটিয়াদী, রায়পুরা, বেলাব, আশুগঞ্জ, সরাইল উপজেলায় বিক্রি করা হচ্ছে।

নৌকা তৈরিকে কেন্দ্র করে ওইসব স্থানে গড়ে উঠেছে বেশকিছু মৌসুমি করাত মিল। এখন মহাব্যস্ত ওইসব করাত মিলগুলো। এসব কাজে অনেক মৌসুমি শ্রমিকের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ভৈরব শহরের কিছু অংশ বাদ দিলে পুরো এলাকাটিই মূলত: গ্রামাঞ্চল। হাওর ও ভাটি এলাকার প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র-কালী নদীসহ অসংখ্য খাল-বিল নালায় বিধৌত ভৈরবের পল্লীর বাসিন্দাদের বর্ষায় নৌকা ছাড়া আর কোনো বাহন থাকে না। তখন তাদের অতি প্রয়োজনীয় বাহন বিভিন্ন কোশা বা ডিঙি নৌকা।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার পথ-ঘাট যখন তলিয়ে যায়, তখন নৌকা ছাড়া তাদের যাতায়াতের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকে না। এমনকি কোথাও কোথাও এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে হলেও নৌকা ছাড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষজনের অন্য কোনো কাজ না থাকায় নদী-নালাসহ প্লাবন ভূমি থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। মাছ শিকারেও এ সব নৌকার প্রয়োজন হয়। ফলে এ সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। সেই অতিপ্রয়োজনীয় বাহনটির চাহিদা মেটানোর কাজে নিয়োজিতদের এখন যেন এতটুকু ফুরসৎ নেই। দিন-রাত চলছে সেই বাহন তৈরির কাজ।

নৌকা তৈরির কারিগর কুদ্দুস মিয়া, সবুজ মিয়া আর চুন্নু মিয়া জানান, সারা বছর তারা এক প্রকার বেকারই থাকেন। কিন্তু চৈত্র থেকে শ্রাবণ-এই পাঁচ মাস তারা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে তারা মজুরি পান আকার ভেদে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। প্রতিদিন এক থেকে দেড়টা নৌকা তারা তৈরি করতে পারেন। মৌসুমে সাধারণত: ৫০-৬০টি নৌকা তৈরি করে থাকেন। তবে যে বছর পানি বেশি ওঠে এবং বেশি দিন স্থায়ী হয় সে বছর এক থেকে দেড়শ নৌকা তৈরি করে থাকেন।

রইছ মিয়া ও রায়হান ভূঁইয়া জানান, তারা ক্রেতার চাহিতা অনুযায়ী সাড়ে তিন থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে নৌকাগুলো তৈরি করে থাকেন। গুণগতমান ভালো এবং দামেও সাশ্রয়ী হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে এখানকার নৌকার বেশ কদর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত