জিম্বাবুয়ের এই টুর্নামেন্টকে দুঃস্বপ্ন ভেবেই ভুলে যেতে চাইবে উইন্ডিজ। কিন্তু তাদের জন্য সত্যটা এতই কঠিন যে তা এড়িয়ে যাওয়াও অসম্ভব। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন থেকে বিশ্বকাপে অনুপস্থিত, পিছলে পড়ার চক্রটা যে তারা পূরণ করল চলতি বাছাইপর্ব দিয়েই। স্কটল্যান্ডের কাছে কাল সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছে ক্যারিবিয়ানরা। এরমানে ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম দুই আসর ১৯৭৫ ও ১৯৭৯-এর চ্যাম্পিয়ন এবং ১৯৮৩ সালের রানার্সআপরা ২০২৩ বিশ্বকাপে থাকছে না। তাদের ইতিহাসে এবারই প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় নয় অবশ্য। এর আগে ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টিকিট পায়নি ক্যারিবিয়ানরা। এছাড়া গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সুপার টুয়েলভে খেলতে পারেনি উইন্ডিজ। সেবারও স্কটল্যান্ডই তাদের বাধা ছিল। সত্যিকার অর্থেই উইন্ডিজ ক্রিকেট নিয়ে দুশ্চিন্তার সময় এসেছে।
গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে উঠলেও কোনো পয়েন্টই ছিল না উইন্ডিজের। বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে তারা হেরেছিল জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের কাছে। জিতেছে নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। কিন্তু এ দুই দল সুপার সিক্সে ওঠেনি। তাই এ দুই দলের বিপক্ষে জেতা পয়েন্টও গোনায় ধরা হয়নি উইন্ডিজের জন্য। এ অবস্থায় সুপার সিক্সে প্রথম ম্যাচ জিতে যাওয়া শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পয়েন্টের হিসাবে পেরে ওঠা কোনো মতেই সম্ভব না উইন্ডিজের জন্য। তারা আগে থেকেই নিজ নিজ গ্রুপ পর্বের পয়েন্টসহ সুপার সিক্স মিলিয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে।
উইন্ডিজ এ ম্যাচে হারছে তা তাদের ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে যায় ৮১ রানে ৬ উইকেট হারালে। যে টুর্নামেন্টে ছোট দলও ৩০০ ছাড়ানো স্কোর করছে সেখানে টি-টোয়েন্টি তারকায় ভরপুর উইন্ডিজ কোনোক্রমে ১৮১ রান তোলে। জবাবে দ্বিতীয় উইকেটে ১২৫ রানের জুটিতে স্কটিশদের পক্ষে ম্যাচ বের করেন আনেন ম্যাথিউ ক্রস (৭৪*) ও ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলান (৬৯)। ম্যাচ জিততে ৪৩.৩ ওভার সময় নিয়েছে স্কটল্যান্ড। ৭ উইকেট ও ৭ ওভারের মতো হাতে রেখে ম্যাচ জেতায় তাদের রান রেটও বেড়েছে অনেক।
ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপটাও হাতছাড়া করে বিধ্বস্ত উইন্ডিজ অধিনায়ক শেই হোপ জানান, ‘কী কী ভুল হয়েছে তা গোনার জন্য এত আঙুল আমার হাতে নেই। আমরা নিজেদের বড় দল ভাবতে পারি না। সকালে উঠব আর এমন একটা টুর্নামেন্টে জয়ের জন্য নেমে যাব এবং জিতব এটা হতেই পারে না। আমাদের সব কিছুই ভুল হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার ছিল। এখন একটাই কাজ করতে পারি শেষ ম্যাচগুলো জিততে নিজেদের সম্মানের জন্য।’
