ইউটার্নে ব্যয় বাড়ল মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩, ১২:২৪ এএম

জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান, মাটি ভরাটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও নতুন করে ৫টি ইউটার্ন যুক্ত হওয়ায় ‘আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা আনোয়ারা সড়ক)’ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। ইতিমধ্যে এতে সায়ও দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের শতভাগ সফলতা পেতে এ সংযোগ সড়কটি এখনই টেকসই করতে হবে বলে মনে করেন কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব। সম্প্রতি এই প্রকল্পের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইসি) হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৪০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একনেকে অনুমোদিত হয়। মেয়াদ ধরা হয়েছিল জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত। কিন্তু নতুন করে প্রকল্পটিতে কতিপয় নতুন খাতের অন্তর্ভুক্তি, বিভিন্ন খাতের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণে মোট ৪৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতি ২৩৪ কোটি ৮৭  লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ।

ব্যয় বাড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে। এর জমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধানও জরুরি। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা ও এর সুফল শতভাগ পেতে এর টেকসই কাঠামো  এখনই প্রয়োজন। আর কয়েকটি ইউটার্ন যুক্ত হয়েছে ভারী যানগুলো যাতে সহজে পার হতে পারে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৭ দশমিক ৮৩ একর ভূমির মধ্যে বিএস জরিপ অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নামে খতিয়ানভুক্ত কিছু জমি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা থাকায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৯৬ একরের বিপরীতে ১১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রাক্কলন পাওয়া গেছে। কিন্তু যথাযথ নকশা অনুযায়ী কিছু ইন্টারসেকশন বা ইউটার্ন নির্মাণের জন্য অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন বিধায় প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ বাবদ অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে মূল ডিপিপিতে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষতিপূরণের প্রাক্কলন অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অতিরিক্ত ৪৩ কোটি ১৩ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ সময় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন অনুবিভাগের উপপ্রধান বলেন, যেহেতু প্রকল্পটি একটি সংশোধিত প্রকল্প, তাই ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা আরও আগেই নিরসন করা প্রয়োজন ছিল।

সভায় জানানো হয়, জমিসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জরুরিভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণের জন্য ১ দশমিক ৯৮ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজের বিপরীতে ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এ সময় সওজের চট্টগ্রাম জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরও জানান, মূল প্রকল্পে তিনটি রাউন্ড অ্যাবাউট অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে উল্লিখিত তিনটি রাউন্ড অ্যাবাউটের পরিবর্তে পাঁচটি ইউটার্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এ ধরনের পরিবর্তন এড়ানোর জন্য পরিকল্পনা পর্যায়ে আরও বেশি যতœবান হওয়া প্রয়োজন। উপপ্রধান বলেন, মাতারবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে ভবিষ্যতে যে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে তা বিবেচনায় নিয়ে এই সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এই প্রকল্পের মূল ডিপিপিতে ১৬টি কালভার্ট (৬০ মিটার) অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে অতিরিক্ত ৫টি নতুন কালভার্ট (২২ মিটার) অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত