চট্টগ্রাম নগরের সেন্ট স্কলাস্টিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী সরকার। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল ভারতের ত্রিপুরায়। তবে সেই আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। ছয় দিনের ডেঙ্গু জ্বরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মৃত্যু হয় শ্রাবন্তীর। এর মাধ্যমে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর প্রকোপ চট্টগ্রামে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠছে তা ফুটে ওঠেছে।
দুই ভাই বোনের মধ্যে শ্রাবন্তী ছোট। বড় ভাই সৌভিক সরকারি বাণিজ্য কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। বাবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। মা গৃহিণী। সদ্য সন্তানহারা মায়ের যেন শোক প্রকাশেরও সুযোগ দিচ্ছে না এই ডেঙ্গু। কারণ এখন একমাত্র ছেলে সৌভিকও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।
ওই দিন রাতেই বলুয়ার দীঘি মহাশ্মশানে মেয়ের সৎকার শেষ করে ছেলেকে নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সৌভিকের স্যালাইন চলছে। ছেলের পাশে বিষাদময় চেহারা নিয়ে বসে আছেন মা। কেবল শ্রাবন্তীর স্মৃতি নিয়ে হাতড়ে বেড়াচ্ছেন।
মা বিটু সরকারের কাছে মেয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই মা। তিনি বলেন, ‘বেড়াতে গিয়েছিলাম ত্রিপুরায়। বেড়াতে যাওয়ার জন্য কী আগ্রহ তার। কিন্তু জ্বর নিয়ে ফিরে আসে। ডেঙ্গু ধরা পড়ে সোমবার। বাসায় মারা গেল মেয়েটি। ডাক্তার বলেছিল ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আর সময় দিল না মা আমার।’
হাসপাতাল কেবিনের অপর শয্যার পাশে বিটু সরকারের বড় বোন বিউটি ঘোষও বসে আছেন। কারণ, তার মেয়ে সামান্তা ঘোষেরও জ্বর। বেড়াতে যাওয়ার দুই দিন আগেই সামান্তার জ্বর ছিল। পরে কমে যায়। সেখানে যাওয়ার পর ২৯ জুন জ্বরে আক্রান্ত হয় শ্রাবন্তী। বেড়ানো সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই ফিরে আসে আটজন।
বিউটি ঘোষ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে গেলাম। ওই দিনই জ্বর আসে শ্রাবন্তীর। পরদিন ফিরে আসি। শনিবার এখানে ডাক্তার দেখানো হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকেলেও ডাক্তার দেখানো হলো। তিনি হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলেননি। ওই রাত পৌনে ৯টায় সব শেষ হয়ে যায়।’
চট্টগ্রাম নগরের ম্যাক্স হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা পুষ্পল দত্ত বলেন, সৌভিকের অবস্থা এখন ভালো। সামান্তার ডেঙ্গু হয়েছে কি না, তা জানতে তার রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা যায়, এ বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে শ্রাবন্তীসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৬ জন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৬১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
