সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫৯ এএম

সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ ও টেকসই এবং ক্রয় কাজে অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন একটি অথরিটি (কর্তৃপক্ষ) গঠিত হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিল-২০২৩’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ বিলটি উত্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিলের ওপর আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। তার আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর প্রতিপালন নিয়ন্ত্রণ, পরিবীক্ষণ, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)’ গঠিত হবে। বিপিপিএর ১৭ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এ কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব। সরকার নিয়োগকৃত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিলের ৯ ধারায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলিতে বলা হয়েছে, এই কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও আইনি কাঠামো প্রণয়ন; বিপিপিএর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতি প্রণয়ন; বিপিপিএর উন্নয়নসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন; বিপিপিএর সামগ্রিক কর্মকান্ড পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনাসহ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

বিলের ১৫ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সরকারি কেনাকাটার তথ্য, দলিল ও নথিপত্র তলবের ক্ষমতা থাকবে বিপিপিএর। কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলো সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সব রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করতে পারবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ২০০২ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডির অধীনে একটি ইউনিট হিসেবে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) গঠন করা হয়। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে সিপিটিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু সরকারের উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি ক্রয়ের এ বর্ধিত কলেবরের আইনি ও কারিগরি তত্ত্বাবধানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো সিপিটিইউতে নেই। তাই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াজনিত বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য বিলটি আনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত