নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে অবাধে মাছ শিকার

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩, ০২:৩৯ এএম

সামুদ্রিক ইলিশের বাধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের অনেক জেলেই মানছেন না এ নিষেধাজ্ঞা। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ম্যানেজ করে গভীর সাগরে মাছ শিকার করছেন কিছু অসাধু জেলে। তাদের দাবি, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে সাগরে মাছ ধরার কার্যক্রম।

আনোয়ারা উপকূলের জেলেদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল। যার সত্যতা মিলেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অভিযানে। ওই অভিযানে উঠান মাঝিরঘাট থেকে ১২০ কেজি লইট্ট্যা ও ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এর আগেও অভিযান চালিয়ে বরফ ধ্বংস করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইলিশসহ সামুদ্রিক ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজননের লক্ষ্যে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু প্রতি বছরের মতো এবারও গতানুগতিকভাবে শুধু কাগজে-কলমে আর মিটিং ডেকেই এ কার্যক্রম শুরু করে মৎস্য দপ্তরসংশ্লিষ্টরা। তবে সরকার আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা বেশিরভাগ সময়ই মানতে চান না জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রায়ই অবাধে মাছ শিকারে সাগরে যেতে দেখা যায় তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আনোয়ারার রায়পুর উপকূলীয় এলাকায় ৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই যেন অকার্যকর; বিশেষ করে গহিরা উঠান মাঝিরঘাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলেদের মাছ ধরতে যেতে দেখা যায়। প্রায় প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জেলেদের মাছ শিকার করতে দেখা যায়। সেখানে মাছ আহরণ, পরিবহন, বেচাকেনা সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে।

আবুল কালাম নামের এক মাঝি বলেন, ‘আমাদের জলসীমায় আমাদেরই মাছ ধরতে দেয় না। অথচ ভারতীয় জেলেরা এসে মাছ ধরে। তাহলে শুধু আমাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ কী?’ এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অন্য জেলেরাও।

অভিযোগ আছে, গহিরা উঠান মাঝিরঘাট মৎস্যজীবী সমিতির কয়েকজন নেতার একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার নামে জেলেদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। ওই সিন্ডিকেট স্থানীয় মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের ম্যানেজ করেছে বলে দাবি জেলেদের। তবে এ বিষয়ে জানতে সমিতির এক নেতার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার কালীবাড়ি এলাকা থেকে ১০ মণ সামুদ্রিক ছোট মাছ জব্দ করে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। পরে ইউএনও মো. ইশতিয়াক ইমনের উপস্থিতিতে মাছগুলো প্রকাশ্যে নিলামে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

গত রবিবার দুপুরে বার ইউলিয়া নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে শঙ্খ নদের মোহনা থেকে দুটি মাছ ধরার নৌকা, ৩০ হাজার মিটার জালসহ আট জেলেকে আটক করে। আটক জেলেরা বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, যারা নৌ-পুলিশকে টাকা দিয়েছে, তারা সাগরে জাল পেতে মাছ ধরছে। আমরা টাকা দিইনি বলে আমাদের আটক করেছে।

তবে বারো আউলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি কায়সার মাতব্বর জেলেদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলেরা নিজেদের দোষ নৌ-পুলিশের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তাছাড়া নিয়মিত সমুদ্রে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের ওসি একরাম উল্লাহ বলেন, নৌ-পুলিশের কাউকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে মাছ শিকার করা হয় এমন তথ্য সঠিক নয়। তবে এমন ঘটনার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযানে বেশকিছু মাছ ও বরফ জব্দ করা হয়েছে। তবে অব্যাহত অভিযানের মধ্যেও কেউ কেউ চুরি করে রাতের আঁধারে সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করছে বলে জেনেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত