সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামে গত সোমবার দুপুরে আমিনা খাতুন (৩) নামের এক শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিপথেরিয়া ও টিটেনাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় শিশুটি সাত ঘণ্টা অজ্ঞান ছিল। আমিনা ওই গ্রামের ভ্যানচালক জাহিদুল ইসলামের মেয়ে।
অপরদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন প্রয়োগকারী অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম রফিক একই উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। কাটাখালী বাজারে ওষুধের দোকানের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখে থাকেন তিনি।
শিশু আমিনার বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার দুপুরে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাছ কাটার বঁটি দিয়ে শিশু আমিনার বাম পা কেটে যায়। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য কাটাখালী বাজারের পল্লী চিকিৎসক রফিকের কাছে নিয়ে গেলে রফিক শিশুটির পায়ে ৯টি সেলাই দেন। এরপর তার শরীরে ডিপথেরিয়া ও টিটেনাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির এ ভ্যাকসিনটি বয়স্ক ও কমপক্ষে ১১ বছর বয়সীদের জন্য হলেও ওই চিকিৎসক ৩ বছরের এ শিশুর শরীরে প্রয়োগের পরপরই শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর শিশুটির জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়।
শিশুটির বাবা আরও জানান, ওষুধটির মেয়াদ ১০দিন আগে শেষ হয়েছে। তারপরেও রফিক তার সন্তানের শরীরে এটা পুশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে রফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, আমিনার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো। এ ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের অনুমতি নেই পল্লী চিকিৎসক রফিকের। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
কামারখন্দ থানার ওসি নূর নবী প্রধান জানান, এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত রফিক পলাতক। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা বলেন, রফিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
